
ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকে তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিমানবন্দরের প্রতিটি প্রবেশপথে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব এবং এপিবিএন-এর বিপুল সংখ্যক সদস্য।
কঠোর নিরাপত্তা ও প্রবেশে কড়াকড়ি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ড্রোন এবং ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করে পুরো বিমানবন্দর এলাকায় নিশ্ছিদ্র নজরদারি চালাচ্ছেন যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। এপিবিএন-এর ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে এবং বিমানবন্দরের ভেতরে-বাইরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।
স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক তাৎপর্য ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার পর এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম দেশ ফেরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং লক্ষাধিক নেতাকর্মী বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুট (৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে) পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমিয়েছেন। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি ৩০০ ফুট এলাকায় আয়োজিত একটি গণসংবর্ধনা সমাবেশে যোগ দেবেন এবং সেখানে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন। এরপর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবেন।
বিজেপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তারেক রহমানের যাতায়াতের পুরো রুটটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।










