
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান। প্রয়াত জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে প্রত্যাশামতোই বিএনপির ব্যাটন হাতে নিলেন তাঁর পুত্র তারেক রহমান। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র (Standing Committee) বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত
শুক্রবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৯টা ৩০ মিনিটে সভা শেষ হওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমিটির সকল সদস্যের সমর্থনে তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এরপর বিএনপির অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান দলের ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
লন্ডন থেকে ঢাকা: দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি Tarique Rahman BNP Chairman
২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন তারেক রহমান। আওয়ামী লীগ জমানায় একাধিক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি বিদেশে অবস্থানকালেই দল পরিচালনা করেছেন। তবে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর গত ডিসেম্বর মাসেই বীরের বেশে দেশে ফেরেন তারেক। ঢাকায় ফেরার পর বিশাল জনসভায় অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করেন তিনি।
খালেদার মৃত্যু ও ভারতের শোকবার্তা
সম্প্রতি দীর্ঘ অসুস্থতার পর খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বাংলাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। এই শোকাতুর পরিবেশে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে ভারতও সমবেদনা জানায়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সশরীরে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঠানো শোকবার্তা তুলে দেন, যা দুই দেশের কূটনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির ভোট যুদ্ধ ও তারেকের ভবিষ্যৎ
তারেক রহমানের কাঁধে দায়িত্ব আসার পর এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের জাতীয় নির্বাচন। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই নির্বাচনে বিএনপিকে ক্ষমতায় ফেরানোই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় দলের হাল ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সামলালেও, পূর্ণকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান ভোট যুদ্ধে কী কৌশল নেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দক্ষিণ এশিয়া।










