
শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বগুড়া (Student Shibir leader killed)। সেই প্রতিবাদের আগুন নিভতে না নিভতেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ছাত্রশিবিরের এক তরুণ নেতা। শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন রাফিউল হাসান, যিনি বগুড়া জেলা পূর্ব শাখা ছাত্রশিবিরের সদস্য এবং স্থানীয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাফিউল হাসান মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকায় পৌঁছতেই পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা ওরিন পরিবহনের একটি বাস তাঁর মোটরসাইকেলে ধাক্কা মারে। প্রবল ধাক্কায় তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার মুহূর্তে আশপাশের মানুষ ছুটে এলেও তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এনপিএস বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর, নিয়মে বড় বদল
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “রাফিউল হাসান শহীদ ওসমান হাদির হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা একজন সম্ভাবনাময় তরুণ সহকর্মীকে হারালাম।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই মৃত্যু সংগঠনের কাছে শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং অপূরণীয় ক্ষতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজের পর শেরপুর বাসস্ট্যান্ড শাহী মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিল শেষে রাফিউল একাই মোটরসাইকেলে করে বাড়ির পথে রওনা দেন। ঠিক সেই সময়ই ঘটে এই দুর্ঘটনা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সহপাঠী, বন্ধু ও সংগঠনের কর্মীরা হাসপাতালে ও তাঁর বাড়িতে ভিড় জমান।
নিহত রাফিউল হাসান সদ্য ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, ছেলে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এক মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। রাফিউল ছিলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা রেজাউর করিম একজন সাধারণ মানুষ। ছেলের এমন অকালমৃত্যুতে পরিবার কার্যত বাকরুদ্ধ।
দুর্ঘটনার পর শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল-আমিন জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




