ঢাকা: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন বিতর্ক উসকে দিল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’-এর অত্যন্ত কাছে অবস্থিত তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-কে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশের উপদেষ্টারা। ঢাকার এই পদক্ষেপকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চিনা সক্রিয়তা
জলসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চিনা রাষ্ট্রদূতকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরের টেপামধুপুর ও শাহবাজপুর এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, ‘তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (TMP) দ্রুত শুরু করতে অত্যন্ত আগ্রহী চিন। চিনা রাষ্ট্রদূতও স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রকল্পের টেকনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট বা কারিগরি মূল্যায়নের কাজ দ্রুত শেষ করতে বেজিং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইউনূসের বিতর্কিত মন্তব্য ও উত্তর-পূর্ব ভারত Siliguri Corridor China Bangladesh
এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে মহম্মদ ইউনুসের একাধিক মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করেছে। গত বছর তিনি ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে ‘ল্যান্ডলকড’ বা ভূ-বেষ্টিত বলে অভিহিত করেছিলেন। এমনকি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভারত-বিরোধী বিক্ষোভের আবহে চিনা অর্থনীতিকে এই অঞ্চলে আরও সম্প্রসারিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। ইউনুস বারবার ভারত, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলির মধ্যে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কৌশলের কথা বলছেন, যা দিল্লির কৌশলগত অবস্থানের জন্য সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক
পরিদর্শন কর্মসূচির আগে চিনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ইউনুসের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, দুই পক্ষই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে। তিস্তা প্রকল্পের পাশাপাশি চিন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নিয়েও কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে।
ভারতের উদ্বেগ কোথায়?
তিস্তা নদীর জলবন্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সীমান্তের এত কাছে এবং শিলিগুড়ি করিডোরের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পাশে চিনা উপস্থিতি ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পে চিনের অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দিল্লিকে চাপে রাখার কৌশল নিচ্ছে ঢাকা।
