ঢাকা: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অস্বস্তি আরও বাড়ল। এবার তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় চার্জ গঠন করার নির্দেশ দিল ঢাকার একটি আদালত। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি হাসিনা-সহ মোট ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে এই মামলায় চার্জ গঠন করা হবে। অভিযুক্তদের মধ্যে ২৫৯ জনই বর্তমানে পলাতক, তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচারপ্রক্রিয়া চলবে বলে আদালত সূত্রে খবর।
ঘটনার নেপথ্যে ‘ভার্চুয়াল সভা’
এই মামলার মূল সূত্রপাত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে। অভিযোগ, সেই সময় ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি-র (CID) দাবি, আমেরিকার আওয়ামী লিগ নেতা রাব্বি আলম ওই সভার মূল আয়োজক ছিলেন। সেই অনলাইন সভায় দেশ-বিদেশের প্রায় ৫৭৭ জন অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ওই সভা থেকে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতনের ডাক দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানি দেওয়া হয়। এমনকি দেশে গৃহযুদ্ধ বাধানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া Sheikh Hasina sedition case
এই ঘটনার তদন্তভার ছিল সিআইডি-র হাতে। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ হাসিনা-সহ ৭২ জনের বিরুদ্ধে প্রথম দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। পরে তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনা-সহ মোট ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় সিআইডি। নিয়ম অনুযায়ী, পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা উপস্থিত না হওয়ায় আইন মেনেই বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের পর এবার রাষ্ট্রদ্রোহিতা
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের আইনে তিনটি পৃথক ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। মানবতার বিরোধী অপরাধের পর এবার সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা তাঁর আইনি সংকটকে আরও ঘনীভূত করল। ঢাকার আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং ৯ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অর্থাৎ চার্জ গঠন সম্পন্ন হবে।
