
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের জগতে নেমে এল গভীর শোক (Sharif Osman Hadi death)। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর নেই। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হল না। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্বাস্থ্য সেলের প্রধান এবং হাদির চিকিৎসায় সরাসরি যুক্ত চিকিৎসক আহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় সব ধরনের চিকিৎসা চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জালিয়াতি মামলায় ফেঁসে গ্রেফতার গেরুয়া রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী
হাদির মৃত্যুসংবাদ প্রথম প্রকাশ পায় ইনকিলাব মঞ্চের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে। সেখানে জানানো হয়, “আমাদের সংগ্রামের সাথী, মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর আমাদের মধ্যে নেই।” এই খবরে সমর্থক ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং স্পষ্টভাষী অবস্থানের কারণে তিনি দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন। অনেকেই মনে করছেন, এই সক্রিয়তাই তাঁকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করে তোলে।
ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর। জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরোনো পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোড এলাকায় চলন্ত রিকশায় ছিলেন হাদি। সেই সময় মোটরসাইকেলে আসা দু’জন আততায়ীর মধ্যে একজন খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি রক্তাক্ত হয়ে রিকশা থেকে পড়ে যান। ঘটনাস্থলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং আততায়ীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীদের সাহায্যে প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় এবং আইসিইউতে রাখা হয়। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটজনক। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে বিদেশে নিয়ে গিয়েও তাঁর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর খবর আসে, যা গোটা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
হাদির মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রকাশ্য রাস্তায় দিনের আলোতে একজন রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এখনো পর্যন্ত হামলাকারীদের গ্রেফতারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি। ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এই ঘটনা শুধু একজন নেতার মৃত্যু নয়, এটি মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অধিকারকে স্তব্ধ করার প্রচেষ্টা।










