
রাজশাহীতে (Bangladesh) আবারও উত্তেজনার ছায়া নেমেছে। ভারতীয় দূতাবাসের সামনে স্থানীয় নাগরিক এবং বিভিন্ন সংগঠন ফের বিক্ষোভ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে ক্ষুব্ধ মানুষজন শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে ভিড় করেছেন। তবে প্রতিবাদের কারণে দূতাবাসের আশেপাশে নিরাপত্তা কড়া করা হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য উপস্থিত রয়েছে।
এই বিক্ষোভ মূলত কয়েকটি পূর্বনির্ধারিত ইস্যু এবং সম্প্রতি ভারতের নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় দূতাবাসের সামনে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের একজন নেতা সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা চাই আমাদের দাবি ভারতীয় দূতাবাসের কাছে পৌঁছাক। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট এবং আমরা কোনো সহিংসতা চাই না।”
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীরা দূতাবাসের আশেপাশে টহল দিচ্ছেন এবং প্রবেশপথগুলি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও নিরাপত্তা ও জনসংখ্যার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের বিক্ষোভে সাধারণ জনজীবনে কোনও রকম ব্যাঘাত না ঘটানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। রাস্তা এবং যান চলাচলে যাতে সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের সময় নাগরিকদের মধ্যে নানা রকম দাবি উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতীয় নীতি, সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা, এবং সম্প্রতি যেসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, সেগুলোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষও প্রভাবিত হয় এবং তাই তাদের অবস্থানও জানানো গুরুত্বপূর্ণ।
রাজশাহীর সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বিক্ষোভ মূলত জনমতের প্রকাশ। যদিও এটি উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে, তবে এটি একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের জন্য একটি বার্তা হিসেবে কাজ করে যে নাগরিকরা সচেতন এবং তাদের ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ একটি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এটি সামাজিক সংলাপের জন্য একটি সুযোগ।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিক্ষোভের ছবি এবং ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে অন্যান্য জেলা থেকেও নাগরিকদের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই তরুণ এবং শিক্ষিত, যারা সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সক্রিয়। তারা তাদের বক্তব্য প্রকাশ করতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, এবং স্লোগান ব্যবহার করছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সবকিছু শান্তিপূর্ণ রাখার চেষ্টা চলছে। কোনও ধরনের সহিংসতা বা অশান্তি ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে উপস্থিত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের সতর্কতা এবং বিক্ষোভকারীদের সম্মানজনক আচরণের কারণে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।










