
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকা থেকে জেলা শহর—রাজপথে ক্ষোভ, শোক ও প্রতিবাদের আবহ। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি গুরুতর অভিযোগ তুললেন হাদির দাদা শরিফ ওমর বিন হাদি। মঙ্গলবার বিকেলে শাহবাগে আয়োজিত ‘শহীদি শপথ’ কর্মসূচি থেকে তিনি দাবি করেন, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর নেপথ্যে সরকারেরই ভূমিকা রয়েছে।
সমাবেশে দাঁড়িয়ে ওমর বিন হাদি অভিযোগ করেন, ভাইয়ের মৃত্যুর ছ’দিন পেরিয়ে গেলেও সরকার এখনও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাঁর কথায়, এই নীরবতা শুধু ব্যর্থতা নয়, বরং সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন, “বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের আগে যাঁরা নিজেদের রাষ্ট্রের মালিক ভাবতেন, আজ তাঁরা কেউই এই দেশে নেই। ওসমান হাদির বিচার না হলে, আজ যারা ক্ষমতায় আছে, তারাও একদিন এই দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে।”
এখানেই থামেননি তিনি। ইউনূস সরকারের উদ্দেশে আরও তীব্র বার্তা দিয়ে ওমর বিন হাদি বলেন, “আপনারা যদি মনে করেন, কয়েক মাস পরে ক্ষমতা ছেড়ে বিদেশে চলে যাবেন, তাহলে ভুল করছেন। এই দেশের মানুষ আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেই। দ্রুত খুনিদের সামনে আনুন। নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার ষড়যন্ত্র আমরা কোনওভাবেই মেনে নেব না।” তাঁর অভিযোগ, সরকার একদিকে হাদির হত্যার সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে সেই ঘটনাকেই অজুহাত করে আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি ওমর বিন হাদি। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর। তিনি বলেন, “রাজপথে আন্দোলন কীভাবে গড়ে তুলতে হয়, কীভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হয়—ওসমান হাদি তা নিজের জীবন দিয়ে শিখিয়ে গিয়েছে। সে ছিল জনতার নেতা, জনগণের কণ্ঠস্বর।”
এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে চাপ আরও বাড়াতে সক্রিয় ইনকিলাব মঞ্চও। সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এদিন ফের মনে করিয়ে দেন ইউনূস সরকারের জন্য নির্ধারিত ৩০ কার্যদিবসের সময়সীমার কথা। গত সোমবার জারি করা প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, এক মাসের মধ্যেই হাদির হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে হবে। সেই দাবিই শাহবাগের মঞ্চ থেকে নতুন করে উচ্চারিত হয়।
সব মিলিয়ে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু এখন আর শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, তা ক্রমে পরিণত হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এক বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক পরীক্ষায়। রাজপথে বাড়তে থাকা ক্ষোভ, সময়সীমার চাপ এবং নির্বাচনী অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ইউনুস সরকারের সামনে পরিস্থিতি যে দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে, তা বলাই বাহুল্য।










