Pahari Bhai Militant: ভারতে ঢুকবে ‘পাহাড়ি ভাই’ এতটাই নিশ্চিত গোয়েন্দা বিভাগ

ভারত সীমান্তে কারা এই পাহাড়ি ভাই? সূত্রের ভিত্তিতে Kolkata 24x7 জানাচ্ছে এদের কিছু কথা।

দিগন্ত জুড়ে পাহাড় থেকে পাহাড়ের ঢেউ খেলছে। ঘন বন আর নদী-ঝর্না পেরিয়ে কোনটা বাংলাদেশ (Bangladesh) কোনটা মায়ানমার (Myanmar) কোনটা ভারত (India) খুব অভিজ্ঞতা না থাকলে বোঝা অসম্ভব। এমন এলাকায় সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশের এক নতুন জঙ্গি দল। তাদের গতিবিধি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে চমকে যাচ্ছেন দেশটির গোয়েন্দা ও পুলিশ কর্তারা (Bangladesh Police)। পাহাড়ি ভাই (Pahari Bhai Militant) নামে এদের বিশেষ পরিচয়।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ ও ভারতের মিজোরাম-ত্রিপুরা রাজ্য সংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য-জঙ্গলাকীর্ণ অঞ্চলে চলেছে জঙ্গি সংগঠনটির প্রশিক্ষণ। এই জঙ্গি সংগঠনটির পোশাকি নাম ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকস্ফীয়া’। আর তাদের ডাক নাম ‘পাহাড়ি ভাই’। দুর্গম সীমান্তের সুযোগ নিয়ে এই গোষ্ঠির সদস্যরা ভারতের দিকে আসবে বলেই মনে করছেন সন্ত্রাসবাদ কার্যকলাপ বিশেষজ্ঞরা।

   

Terror alert Militants activity from nepal

কারা এই পাহাড়ি ভাই?

বাংলাদেশ পুলিশ ও জঙ্গি দমন শাখা অর্থাত CTTC (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট) সর্বশেষ যে তথ্য দিয়েছে তাতে বলা হয়ে়ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকস্ফীয়া সংগঠনটি তার জাল বিস্তার শুরু করেছে। এই সংগঠনের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে ‘পাহাড়ি ভাই’ গোষ্ঠির নাম নিয়ে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (Dhaka Metropoliton Police) জঙ্গি দমন শাখা সিটিটিসি প্রধান মহম্মদ আসাদুজ্জামানের ইঙ্গিত নতুন তৈরি জঙ্গি সংগঠনটিতে যোগ দিতে বেশকিছু যুবক ঘর ছেড়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে উঠে আসছে, দুর্গা পূজার সময় এই যুবকদের কথা জানতে পারা যায়। হামলার আশঙ্কায় তৎক্ষণাৎ পুলিশের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়। নিরাপত্তার কড়াকড়ি না থাকলে দুর্গা পূজায় বড়সড় হামলা হতে পারত বলেই মনে করছে বাংলাদেশের পুলিশ বিভাগ।

Pahari Bhai Militant: ভারতে ঢুকবে 'পাহাড়ি ভাই' এতটাই নিশ্চিত গোয়েন্দা বিভাগ

নতুন জঙ্গি সংগঠনটির লক্ষ্য কী?

বাংলাদেশ পুরনো জেএমবি, হুজি-বি, নব্য জেএমবি, আনসার আল ইসলাম (এবিটি), হিজবুত তাহরীরের মতো জঙ্গি সংগঠন থেকে সদস্য নিয়ে নতুন নাম দিয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানো।

সংগঠনটি সীমান্তের ওদিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের এনএলএফটি ও মিজোরামের উপজাতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করে রেখেছে বলে বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ বলছে। আবার মায়ানমার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সশস্ত্র কিছু সংগঠনও মদত করছে।

বাংলাদেশ ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (RAB) বাহিনীর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে কমপক্ষে ৫৫ যুবক ঘর ছেড়েছে। তদন্তে নেমে এই নিখোঁজদের মধ্যে ৩৮ জনের নাম ও পরিচয় মিলেছে। ঘরছাড়া তরুণদের অনেকে বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চলে আত্মগোপনে আছে। সেখানে তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। এরাই জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকস্ফীয়া জঙ্গি সংগঠনের ‘পাহাড়ি ভাই’ গোষ্ঠিভুক্ত। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এদের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য বলছে, নতুন নামে তৈরি জঙ্গি সংগঠনটির লক্ষ্য হলো পুরনো নিষ্ক্রিয় জঙ্গি সদস্যদের ফের এক ছাতার তলায় আনা।

তথ্য বিশ্লেষণে উঠে আসছে ভারতের অসম ও পশ্তিমবঙ্গের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি যেমন আলফা (স্বাধীনতা), এনডিএফবি ও কেএলও গোষ্ঠির সঙ্গে সংযোগ করতে কিছুটা সফল হয়েছে পাহাড়ি ভাইরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন