ঢাকা: ঢাকা ও সীমান্ত সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ওসমান শরিফ হাদি খুনের ঘটনায় (Osman Sharif Hadi murder)। বাংলাদেশের পুলিশ দাবি করেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ব্যবহার করেই তারা বাংলাদেশ ছাড়ে বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এই ঘটনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা ও পারস্পরিক গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ওসমান শরিফ হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের তুরা শহরে পৌঁছেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “অনানুষ্ঠানিক সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে অভিযুক্তরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ত্যাগ করেছে এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অবস্থান করছে।”
বাংলাদেশকে সমর্থন করে লন্ডন হাই কমিশনের সামনে খালিস্তানীরা
পুলিশ সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুই অভিযুক্ত সীমান্ত পার হওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় দালাল ও পাচারচক্রের সহায়তা পেয়েছে। নজরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, “মেঘালয় পুলিশের পক্ষ থেকে দুইজন হ্যান্ডলারকে আটক করা হয়েছে, যারা অভিযুক্তদের সীমান্ত পার হতে সাহায্য করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।” যদিও ভারতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ওসমান শরিফ হাদি ছিলেন ঢাকার এক পরিচিত রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের ব্যক্তি। তাঁর হত্যাকাণ্ড ঘিরে বাংলাদেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। দিনের আলোতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েই নয়, বরং রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ একাধিক অভিযানে নামে এবং বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা প্রথমে ঢাকার আশপাশে আত্মগোপন করলেও পরিস্থিতি আঁচ করে দ্রুত সীমান্তবর্তী অঞ্চলের দিকে সরে যায়। বিশেষ করে মেঘালয় সীমান্তের দুর্গম এলাকা ও পাহাড়ি পথকে তারা পালানোর জন্য ব্যবহার করেছে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। এই রুট দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাচারের জন্য ব্যবহৃত হয় বলে গোয়েন্দা মহলের ধারণা।
এদিকে, এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং সহযোগিতা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও বাংলাদেশ পুলিশ বলছে, তারা ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হচ্ছে। তবে ‘অনানুষ্ঠানিক সূত্রে’ তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অভিযুক্তরা সত্যিই ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থান করে, তাহলে তাদের প্রত্যর্পণ বা আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি জটিল হতে পারে। অতীতে একাধিক মামলায় দেখা গেছে, সীমান্ত পেরিয়ে অপরাধীরা পালিয়ে গেলে তদন্ত দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ে যায়। ফলে ওসমান শরিফ হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়াও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শুধু একটি খুনের তদন্তেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন এবং পুলিশি সমন্বয়ের বাস্তব চিত্রকেই সামনে এনে দিয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা না গেলে, এই ইস্যু আগামী দিনে আরও বড় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহল।
