ঢাকা: শেখ হাসিনাই ঠিক ছিলেন এমনটাই মন্তব্য করলেন জুলাই (Nila Israfil)আন্দোলনের অন্যতম মুখ নিলা ইসরাফিল। হাসিনা মুক্তি যুদ্ধের বিরোধীদের রাজাকার বলেছিলেন। এবার তার সেই বক্তব্যকে সমর্থিন করে বিস্ফোরক নিলা। নিলা এনসিপির অন্যতম নেত্রী ছিলেন কিন্তু জামাতের সঙ্গে জোট করবেন না বলে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন।
আজ সমস্ত জল্পনা শেষ করে জামাতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে এনসিপি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পদত্যাগ করে হাসিনার বক্তব্যকে সমর্থন করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। নিলা বলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার জায়গায় সঠিক ছিলেন। আসলে সময় বদলায়, পরিস্থিতি বদলে যায় কিন্তু বিশ্বাসঘাতকরা বিশ্বাসঘাতকই থাকে।
নিলা তাঁর পোস্টে লেখেন, “দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর জায়গায় সঠিক ছিলেন। সময় বদলায়, পরিস্থিতি বদলে যায়, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকরা বিশ্বাসঘাতকই থাকে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আদর্শিক অবস্থান পরিবর্তনের মধ্যেও কিছু রাজনৈতিক শক্তির চরিত্র অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘ছাই থেকে উঠেছি’- নতুন বছরে অ্যান্থনির আবেগঘন বার্তা ভাইরাল
আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলা রাজনীতিকে ব্যাখ্যা করেন এক অভিনব রূপকে। তিনি লেখেন, রাজনীতি অনেকটা জ্যামিতির মত। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনীতির একটি নির্দিষ্ট জন্ম স্থান রয়েছে এবং তা হল ১৯৭১ সাল। সেখান থেকেই একটি সরলরেখার মতো আদর্শিক প্রবাহ টানা যায়, যেখানে চিন্তাধারা, ভাষা, রাজনৈতিক ভঙ্গি ও অবস্থান একই দিকে অগ্রসর হয়। দল বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু আদর্শিক ভেক্টর একই থাকে এমনটাই দাবি তাঁর।
নিলার বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বর্তমান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি অংশকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ধারার উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, “এটি আবেগ নয়, এটি রাজনৈতিক যুক্তি।” যদিও তাঁর ব্যবহৃত শব্দচয়ন ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি করেছে, তবু তাঁর মূল বক্তব্য ঘুরে ফিরে একটি জায়গাতেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম সেই চেতনার বিরোধিতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিলা ইসরাফিলের এই অবস্থান পরিবর্তন শুধু ব্যক্তিগত মতবদল নয়, বরং বর্তমান বিরোধী রাজনীতির ভেতরের দ্বন্দ্ব ও আদর্শিক সংকটের প্রতিফলন। যাঁরা একসময় জুলাই আন্দোলনের ব্যানারে একত্রিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যেই এখন স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে একদিকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে আপস, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রশ্ন।
নিলার এনসিপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত সেই বিভাজনকেই আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আর সেই অবস্থান থেকেই তিনি শেখ হাসিনার পূর্ববর্তী সতর্কবার্তা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে মূল্যায়ন করছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেউ কেউ নিলার বক্তব্যকে “সাহসী আত্মসমালোচনা” বলে প্রশংসা করছেন, আবার বিরোধী শিবিরের একাংশ একে “রাজনৈতিক সুবিধাবাদ” বলেও আক্রমণ করেছে। তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, নিলার বক্তব্য ফের একবার মুক্তিযুদ্ধ, রাজাকার বিতর্ক এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক আদর্শের মূল প্রশ্নগুলোকে সামনে এনে দিয়েছে।
