কাঠমান্ডু: কাঠমান্ডুর রাজপথে ফুটে উঠল ক্ষোভের আগুন (Nepal protests against Hindu killings)। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর চলমান নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর, লুটপাট এবং সম্প্রতি দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস লিঞ্চিংয়ের প্রতিবাদে নেপালের হিন্দু সম্প্রদায় রাস্তায় নেমেছে।
হাজার হাজার মানুষ প্ল্যাকার্ড, ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন, স্লোগান দিয়েছেন ‘বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বন্ধ করো’, ‘সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার রক্ষা করো’। এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতা-কর্মী, যুবক-যুবতী এবং সাধারণ নাগরিকরা।
নেপালের এই প্রতিবাদ দেখে অনেকে বলছেন, ‘নেপালের হিন্দুরা সত্যিই সাহসী—তারা নিজেদের ভাই-বোনদের জন্য রাস্তায় নেমেছে।’বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু সম্প্রতি এটি চরমে পৌঁছেছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে।
মঙ্গলে ব্ল্যাকআউট? রোভারের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ হারাবে নাসা
এর মধ্যে ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো সুযোগ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে টার্গেট করছে। ডিসেম্বর মাসেই বেশ কয়েকটি ঘটনায় হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে জনসমক্ষে পিটিয়ে মেরে দেহ আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া মন্দিরে আগুন, বাড়িঘর লুট, নারীদের উপর অত্যাচার—এমন খবর প্রায় প্রতিদিনই আসছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত ৭৬টিরও বেশি হিন্দু-বিরোধী হিংসার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নির্যাতনকে ‘সংখ্যালঘু অধিকারের খোলাখুলি লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।নেপালে এই বিক্ষোভের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। কাঠমান্ডুর রাস্তায় শংখধ্বনি, হরিনাম সংকীর্তনের মাঝে প্রতিবাদী স্লোগান।
বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। কেউ কেউ জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়ার দাবি তুলেছেন। নেপালের হিন্দু সংগঠনগুলো বলছে, ‘বাংলাদেশের হিন্দুরা আমাদের ভাই-বোন। তাদের উপর অত্যাচার মেনে নেওয়া যায় না। নেপাল হিন্দু রাষ্ট্রের ঐতিহ্য বহন করে, তাই আমরা চুপ করে থাকতে পারি না।
