ঢাকা: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত (Neela Israfil)অধ্যায় ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট আন্দোলন। এবার এই আন্দোলন নিয়ে একেবারে ভিন্ন ছবি সামনে আনলেন নিলা ইসরাফিল। যিনি এতদিন ‘ছাত্র বিপ্লব’-এর অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, সেই নিলা এবার সরাসরি দাবি করলেন এই আন্দোলন আদৌ ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান ছিল না। বরং এটি ছিল শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সুচারুভাবে পরিকল্পিত একটি অপারেশন।
নিলা ইসরাফিলের এই মন্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে কার্যত শোরগোল পড়ে গেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনের আড়ালে সক্রিয় ছিল একাধিক গোপন শক্তি, যাদের মূল লক্ষ্য ছিল সরকার পতন। তিনি দাবি করেন, “ছাত্রদের নাম ব্যবহার করে গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এটাকে বিপ্লব বলা একেবারেই ভুল।”
‘অসম ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ’, হুঁশিয়ারি অমিত শাহের
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ আসে আন্দোলনের সময় নিহত দুই যুবক আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধ কে ঘিরে। নিলার দাবি, এই দু’জনের মৃত্যু ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তাঁদের হত্যা করে আন্দোলনে আগুন জ্বালানো হয়, যাতে পরিস্থিতি আরও দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাঁর ভাষায়, “এই মৃত্যুগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল আবেগ উসকে দিতে। এটা নৃশংস বাস্তব।”
এখানেই থেমে থাকেননি নিলা। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় যেসব পুলিশ হত্যার ঘটনা ঘটেছিল, সেগুলোর সঙ্গে সাধারণ ছাত্রদের কোনও যোগ ছিল না। বরং “দাড়িওয়ালা, টুপি পরা সশস্ত্র জঙ্গিরা” আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। এই বক্তব্য নতুন করে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মৌলবাদ প্রসঙ্গকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি আসে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসকে ঘিরে। নিলার বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর যে ‘মেটিকিউলাস ডিজাইন’, তা সম্পর্কে ইউনুস সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন। তিনি সরাসরি বলেন, “এটা হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনা নয়। কারা ক্ষমতায় আসবেন, কীভাবে পরিস্থিতি তৈরি হবে সব কিছু আগে থেকেই ঠিক করা ছিল।”
এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা নীলার বক্তব্যকে “সত্যের স্বীকারোক্তি” বলে দাবি করছেন। তাঁদের মতে, এতদিন ধরে যে অভিযোগ দলটি করে আসছিল, নীলার বক্তব্যে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, আন্দোলনপন্থী ও অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থকরা এই অভিযোগকে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” ও “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছে, নিলার এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন তদন্ত ও আন্তর্জাতিক নজরদারির দরজা খুলে দিতে পারে। কারণ, যদি সত্যিই ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে সংগঠিত শক্তি ও জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকে, তাহলে তা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্যই বড় প্রশ্নচিহ্ন।
সব মিলিয়ে, নিলা ইসরাফিলের এই বিস্ফোরক অভিযোগ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসকে নতুন করে বিচার করার দাবি তুলেছে। ‘ছাত্র বিপ্লব’ আসলে কতটা বিপ্লব ছিল, আর কতটা সুপরিকল্পিত ক্ষমতার খেলা সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা দেশজুড়ে।
