জামাতের ৪৫ কোটির প্যাকেজে নাখুশ এনসিপি

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে নতুন ঝড় উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP Jamaat alliance controversy) এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নির্বাচনী জোট নিয়ে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের…

ncp-jamaat-alliance-controversy-bangladesh-election

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে নতুন ঝড় উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP Jamaat alliance controversy) এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নির্বাচনী জোট নিয়ে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের নায়কদের গড়া এনসিপি, যারা শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল, এখন জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার পথে হাঁটছে। এই জোটের খবরে দলের ভিতরে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে কয়েকজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন, অনেকে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করছেন।

Advertisements

তবে দলের একটি বড় অংশ এই জোটকে ‘প্রাগম্যাটিক’ বলে সমর্থন করছে।সূত্রমতে, জামায়াতে ইসলামী এনসিপিকে ৩০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে প্রতি আসনের জন্য ১.৫ কোটি টাকা করে মোট ৪৫ কোটি টাকার একটি ‘প্যাকেজ’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই অর্থ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয় করার জন্য। কিন্তু এনসিপির ছাত্রনেতারা এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন। তারা আরও বেশি আসন দাবি করছেন এবং ৪৫ কোটি টাকার এই প্যাকেজকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে প্রত্যাখ্যান করছেন।

   

১১৪টি রাফাল vs ২৩০টি Su-57! রাশিয়ার মাস্টারস্ট্রোক, ফ্রান্সের চুক্তি ঝুঁকিতে? ভারতের জন্য দাম অর্ধেক

আলোচনা চলছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কত আসন এবং কত অর্থ নিয়ে চুক্তি হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।এই জোটের পিছনে আরও গভীর খেলা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু সূত্র দাবি করছে, ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন এই আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মাধ্যমে অর্থায়ন এবং কৌশলগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক তো সবাই জানে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষে ছিল।

এখন আবার সেই ছায়া পড়ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে।এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই জোটকে ‘শুধু নির্বাচনী কৌশল’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, দলের আদর্শের সঙ্গে জামায়াতের মিল নেই, কিন্তু নির্বাচনে বড় ঐক্য দরকার। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে বিএনপি সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের ভোটব্যাংক শক্তিশালী। এনসিপির একার পক্ষে ৩০০ আসনে লড়া কঠিন সাম্প্রতিক জরিপে তাদের সমর্থন মাত্র ৬ শতাংশ।

তাই জোট না করলে তাদের অস্তিত্বই বিপন্ন।কিন্তু এই সিদ্ধান্ত দলের ভিতরে ঝড় তুলেছে। তাসনিম জারা, যিনি ব্রিটেন থেকে ফিরে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন, পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সামান্তা শারমিন বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এনসিপিকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হবে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ৩০ জন নেতা নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়ে জোটের বিরোধিতা করেছেন। তারা বলছেন, জামায়াতের ১৯৭১-এর ভূমিকা এবং যুদ্ধাপরাধের ইতিহাস এনসিপির গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে মেলে না। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা এভাবে বিক্রি করা যায় না।

Advertisements