বাংলাদেশে আরেক হিন্দু যুবকের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে (Hindu youth)। নওগাঁ জেলার কালিতলা মহাশ্মশানের কাছে একটি নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে শ্রী অভির দেহ। সাত দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। অভি (বা অভি চন্দ্র) ছিলেন নওগাঁ গভর্নমেন্ট কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র। তাঁর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এটা কি সাম্প্রদায়িক হিংসার ফল, না অন্য কোনও কারণ?
পরিবার ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।অভির পরিবার জানিয়েছে, গত সাত দিন ধরে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কলেজে ক্লাস করতে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ। ফোন বন্ধ, বাড়িতে ফেরেননি। পরিবার ও বন্ধুরা থানায় অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু কোনও সূত্র মিলছিল না। অবশেষে স্থানীয়রা নদীতে ভেসে থাকা দেহ দেখতে পান।
কাদের বিপক্ষে প্রথম আইএসএল ম্যাচ খেলতে পারে লাল-হলুদ?
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডাইভাররা দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ জাগিয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার।এই ঘটনা বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চলমান হিংসার ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। গত কয়েক মাসে একের পর এক হিন্দু যুবকের মৃত্যুর খবর আসছে। নওগাঁতেই সম্প্রতি মিঠুন সরকার নামে এক যুবককে চুরির অভিযোগে জনতা তাড়া করে, পালাতে গিয়ে খালে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান।
মোহাদেবপুর এলাকায় ঘটে ওই ঘটনা। তার আগে রানা প্রতাপ বৈরাগী, সরত চক্রবর্তী (মনি) সহ একাধিক হিন্দু ব্যক্তির খুনের খবর এসেছে। ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অকাশ সরকারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে, যা আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও সন্দেহ রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে একাই ৫০টিরও বেশি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে বলে মাইনরিটি সংগঠনগুলো দাবি করছে।
ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধিকাংশ ঘটনাকে ‘নন-কমিউনাল’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। তারা বলছে, ২০২৫-এ মোট ৬৪৫টি ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু মাত্র ৭১টি সাম্প্রদায়িক। বাকিগুলো চুরি, জমি-বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে উদ্ভূত।
কিন্তু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ (বিএইচবিসিইউসি) সহ সংগঠনগুলো বলছে, এটা স্পষ্ট সাদা ধোয়ানো। অভির ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠছে একজন মেধাবী ছাত্র কেন নদীতে ভেসে উঠল? কেন সাত দিন খোঁজ মিলল না? স্থানীয়রা বলছেন, অভি শান্ত, পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। কোনও শত্রুতা ছিল না। তাহলে কেন এমন মৃত্যু?
