বাংলাদেশে হিন্দুরা নিরাপদ নন, ভোট দিতে চাই পৃথক বুথ চাইল সংখ্যালঘু সংগঠন

Minority security in Bangladesh elections

ঢাকা: বাংলাদেশে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠল। “বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে হিন্দুরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার মতো সাহস পাচ্ছেন না”— এই বিস্ফোরক দাবি তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বারস্থ হলো ঢাকেশ্বরী হিন্দু সভা এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা এবং পৃথক পোলিং বুথের দাবি জানিয়েছে তারা।

Advertisements

নিরাপত্তা ও পৃথক বুথের দাবি

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে হিন্দু সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ক্রমেই বাড়ছে। বারবার হামলা এবং হুমকির কারণে অনেক হিন্দু ভোটার ভোটদানে অনীহা প্রকাশ করছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো জানানো হয়েছে-

   
  • সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
  • নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার জন্য হিন্দুদের জন্য পৃথক পোলিং বুথের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • স্পর্শকাতর এলাকায় নির্বাচনের আগে ও পরে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে।

চট্টগ্রামে আরও এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা Minority security in Bangladesh elections

সংখ্যালঘুদের এই আবেদনের মাঝেই বাংলাদেশে আরও এক হিন্দু যুবকের হত্যার খবর পাওয়া গিয়েছে। গত রবিবার রাতে চট্টগ্রামের দাগনভূঞায় ২৮ বছর বয়সী সমীর দাসকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পেশায় অটোচালক সমীরকে মারধর করে তাঁর ব্যাটারিচালিত রিকশাটি ছিনতাই করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।

দেশজুড়ে হিন্দু নিধনের আতঙ্ক!

গত কয়েক দিনে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে একাধিক নৃশংস ঘটনার:

যশোর: হিন্দু ব্যবসায়ী তথা সংবাদপত্র সম্পাদক রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে মারা হয়েছে।

খুলনা ও পাবনা: গণধর্ষণ, জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়া এবং পিটিয়ে মারার মতো একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।

জয় মহাপাত্র হত্যা: আমিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির হাতে জয় মহাপাত্র নামে এক হিন্দু যুবক বিষপ্রয়োগে খুনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ।

ভারতের প্রতিক্রিয়া: তোপ মালব্য ও কাঞ্চন গুপ্তের

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর এই লাগাতার হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারত। বিজেপি-র আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স (X) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ইউনুস সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর নিরন্তর অত্যাচার চলছে। অথচ সরকার একে ‘কল্পকাহিনী’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।” তিনি পশ্চিমবঙ্গকেও এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন।

অন্যদিকে, অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও ভারত সরকারের উপদেষ্টা কাঞ্চন গুপ্ত সরব হয়েছেন পশ্চিমী দেশগুলোর নীরবতা নিয়ে। তিনি বলেন, “ইউরোপ-আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠনগুলো কেন চুপ? বাংলাদেশে হিন্দুদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে।”

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে এখন চূড়ান্ত উত্তেজনা। নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

 Bangladesh: Facing rising violence and killings, Hindu organizations in Bangladesh demand separate polling booths and extra security for the upcoming February 12 elections. Learn why the minority community fears voting under the current interim regime.

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements