‘ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে’, বাংলাদেশি গণমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

mea-challenges-bangladesh-media-narratives-calls-for-transparent-justice-process
mea-challenges-bangladesh-media-narratives-calls-for-transparent-justice-process

বাংলাদেশের (Bangladesh Media) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) কড়া প্রতিক্রিয়া। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

MEA এক বিবৃতিতে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডকে স্পষ্ট ভাষায় ‘নৃশংস ও বর্বর’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত সমস্ত দোষীকে দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিদেশ মন্ত্রক জোর দিয়ে বলেছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শুধু আইনের দায়িত্বই নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত জরুরি।

   

এদিকে, বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছে MEA। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কয়েকটি সংবাদমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে, যা বাস্তব পরিস্থিতিকে বিকৃত করছে। বিশেষ করে ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করা হয়েছে। MEA স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দূতাবাসে ঢোকার কোনও চেষ্টা হয়নি, যদিও একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা দীপু চন্দ্র দাসকে ঘিরে স্লোগান দিয়েছিল।

জানা গিয়েছে, ভারতীয় কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় মিশন ও অন্যান্য কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে, বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও ভারত বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানানো হয়েছে।MEA-এর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর একাধিক হামলার খবর ভারতের কাছে এসেছে। এই ধরনের ঘটনাগুলি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক স্তরে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ভারতের তরফে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই ভারত আশা করছে, বাংলাদেশ সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং আইনের শাসন বজায় রাখবে। দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।

MEA এই বিষয়টিকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না, বরং বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করছে। ভারতের মতে, ভুল তথ্য ও প্রোপাগান্ডা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়।

 

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন