জলপাইগুড়ির ‘পুতুল’ থেকে ঢাকার ‘দেশনেত্রী’! ভারতের সঙ্গে জটিল সমীকরণ খালেদা জিয়ার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, তিনবারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫) ভোর…

Khaleda Zia’s Relationship With India

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, তিনবারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

Advertisements

বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় এই সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগসহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের শুরুতে লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে।

   

ক্ষমতার মঞ্চে আবির্ভাব ও রাজনৈতিক সংগ্রাম

১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে এক বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে। ১৯৮১ সালে স্বামী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর তিনি ১৯৮৪ সালে বিএনপির হাল ধরেন। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সফলতায় ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সূর্যোদয় ঘটে।

১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়েন। তাঁর হাত ধরেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তিত হয়। তিনি ১৯৯১-৯৬, ১৯৯৬ (স্বল্প মেয়াদে) এবং ২০০১-০৬ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

‘ব্যাটল অফ দ্য বেগমস’ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার Khaleda Zia’s Relationship With India

বাংলাদেশের রাজনীতি গত তিন দশক ধরে আবর্তিত হয়েছে বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার মধ্যকার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে, যা বিশ্বজুড়ে ‘ব্যাটল অফ দ্য বেগমস’ নামে পরিচিত। এই দ্বৈরথ একদিকে যেমন দেশের রাজনীতিকে মেরুকরণ করেছে, অন্যদিকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

২০১৮ সালে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবরণ ও গৃহবন্দী ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি আদেশে তিনি মুক্তি পান এবং পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ মামলায় খালাস লাভ করেন।

ভারত ও খালেদা জিয়া: এক অমীমাংসিত সমীকরণ

বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ছিল ব্যক্তিগত শেকড় ও রাজনৈতিক সতর্কতার এক জটিল সংমিশ্রণ। জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার পারিবারিক সূত্র ছিল ভারতে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ভারতের প্রতি কিছুটা সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতেন।

তাঁর শাসনামলে বিএনপি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’–এর ওপর ভিত্তি করে ভারতের সঙ্গে এক ধরনের বাস্তবমুখী ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। যদিও নিরপত্তা সহযোগিতা এবং জলবণ্টন ইস্যুতে দিল্লির সাথে তাঁর রাজনৈতিক মতভেদ ছিল স্পষ্ট, তবুও মানবিক কারণে দিল্লির সাথে কূটনৈতিক যোগসূত্র কখনোই বিচ্ছিন্ন হয়নি।

Advertisements