ঢাকায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদে করা মানব বন্ধনে পুলিশের সামনেই হামলা

ঢাকা: রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি (Karwan Bazar traders extortion)বাজার কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল…

karwan-bazar-traders-extortion-protest-attack

ঢাকা: রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি (Karwan Bazar traders extortion)বাজার কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই মানববন্ধনে হামলা চালানো হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে নাম উঠে এসেছে আবদুর রহমান নামে যুবদলের এক বহিষ্কৃত নেতার।

Advertisements

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগে আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার তাঁরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। কিন্তু আচমকাই কয়েকজন ব্যক্তি এসে ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি, এরপর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

   

ভারতের সামরিক শক্তিতে বিরাট বৃদ্ধি, ৭৯,০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন DAC-র

ব্যবসায়ীদের দাবি, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের উপর চড়াও হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও রাস্তায় নেমে আসেন এবং হামলাকারীদের তাড়া করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন। ঘটনার পর কারওয়ান বাজার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) আবদুল হান্নান বলেন, “ব্যবসায়ীরা একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছিলেন। সেখানে পুলিশ উপস্থিত ছিল। হঠাৎ কিছু লোক ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।”

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আবদুর রহমান গত ৫ আগস্ট থেকে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিলেন। এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেই তাঁরা বারবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সোমবারের মানববন্ধনও ছিল সেই আন্দোলনেরই অংশ।

ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি আবদুর রহমানকে গ্রেফতার না করা হয়, তাহলে তাঁরা দোকানপাট বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন। তাঁদের মতে, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বাজারের স্বাভাবিক ব্যবসা কার্যত অচল হয়ে যাবে। হামলার ঘটনার পরপরই ব্যবসায়ীরা এলাকায় একটি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিলও করেন। সেই মিছিলে চাঁদাবাজি বন্ধ, হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং বাজারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রাক্তন সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলা গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য, চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধ দমনে যেখানে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন, সেখানে নিরীহ ব্যবসায়ীদের উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সব মিলিয়ে, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে হামলার ঘটনা নতুন করে আইনশৃঙ্খলা এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।

Advertisements