Home World Bangladesh জিন্নাহর জন্মদিনে বাংলাদেশের প্রেসক্লাবে ঘটা করে অনুষ্ঠান

জিন্নাহর জন্মদিনে বাংলাদেশের প্রেসক্লাবে ঘটা করে অনুষ্ঠান

jinnah-birth-anniversary-dhaka-press-club-controversy

ঢাকা: পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ১৪৯তম জন্মবার্ষিকীতে (Jinnah birth anniversary)বাংলাদেশে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি অনুষ্ঠান। গতকাল ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নওয়াব সলিমুল্লাহ একাডেমির আয়োজনে জিন্নাহর জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা জিন্নাহকে মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নায়ক হিসেবে স্মরণ করেন এবং তাঁর অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান।

Advertisements

কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ উপলক্ষে বিশাল পোস্টার লাগানো হয়েছে এবং অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে, যা জিন্নাহর মুসলিম রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকাকে তুলে ধরে। তবে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো পোস্টার বা অনুষ্ঠানের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনুষ্ঠানটি মূলত প্রেস ক্লাবে সীমাবদ্ধ ছিল।

   

‘অপারেশন সিঁদুর সঠিক সিদ্ধান্ত!’ বিস্ফোরক ইসলামিক স্কলার

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জিন্নাহর নেতৃত্বে লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতাও সম্ভব হতো না। ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টির চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ বলেন, “লাহোর প্রস্তাবের বাস্তবায়নই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি। আমাদের ‘জাতির পিতা’ ধারণার বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের স্বীকৃতি দিতে হবে নওয়াব সলিমুল্লাহ, শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মওলানা ভাসানীকে।”

অন্য বক্তারা জিন্নাহর জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরেন এবং বলেন, গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশে জিন্নাহর নাম উচ্চারণ করাও অনানুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল।এই অনুষ্ঠানটি গত সেপ্টেম্বরে জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের ধারাবাহিকতা। সেবারও নওয়াব সলিমুল্লাহ একাডেমি প্রেস ক্লাবে উর্দু গান-কবিতা দিয়ে অনুষ্ঠান করে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বলে দাবি করা হয়। বক্তারা তখন বলেছিলেন, “জিন্নাহ না থাকলে পাকিস্তান হতো না, পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশও হতো না।”

এবারের জন্মদিন উদযাপনে সেই সুরই ধরা পড়েছে। কেউ কেউ জিন্নাহকে বাংলাদেশেরও ‘জাতির পিতা’ বলে অভিহিত করেছেন।এই উদযাপন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এ ধরনের অনুষ্ঠান বেড়েছে, যা অনেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা বলে মনে করছেন।

ইতিহাসবিদরা বলছেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা এবং ভাষা আন্দোলনে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার কারণে জিন্নাহর নাম বাংলাদেশে দীর্ঘদিন বিতর্কিত। জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেছিলেন, যা ভাষা আন্দোলনের সূচনা করে। এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই প্রথম প্রতিবাদ করে।

Advertisements