ঢাকা: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে (India)নিরাপত্তা উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
অর্থাৎ, আপাতত বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও আধিকারিকরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে থাকতে পারবেন না। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
কৃষিতে অবাক করা সাফল্য বাংলার কৃষি বিজ্ঞানীদের
কূটনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং নির্বাচনের আগে হিংসা ও অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়ছে। ভারতের তরফে এটিকে ‘প্রিকশনারি মেজার’, অর্থাৎ আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
বাংলাদেশে আগামী মাসেই নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সংঘাত, বিক্ষোভ, হরতাল এবং হিংসাত্মক ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, নির্বাচনের সময় বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলিও মাঝেমধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এই প্রেক্ষিতেই ভারত সরকার চাইছে না, কোনওভাবেই ভারতীয় কূটনীতিক বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠুক। তাই আগাম ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকায় কর্মরত আধিকারিকদের পরিবারকে সাময়িকভাবে ভারতেই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ মানে কী?
কূটনৈতিক পরিভাষায় ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ বলতে বোঝায়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিক একা কর্মস্থলে থাকবেন, কিন্তু তাঁর স্ত্রী, সন্তান বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেখানে বসবাস করবেন না। এই ব্যবস্থা সাধারণত নেওয়া হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা, সন্ত্রাসপ্রবণ অঞ্চল বা চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করছে যে, পরিস্থিতিকে ভারত কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ভারতের তরফে প্রকাশ্যে কোনও কঠোর মন্তব্য না করা হলেও, ঢাকায় হাইকমিশনকে নন-ফ্যামিলি পোস্টিং করা সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
কূটনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
প্রাক্তন কূটনীতিকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা নয়। বরং এটি একটি রুটিন নিরাপত্তা মূল্যায়নের ফল। এক প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতের কথায়, “যখনই কোনও দেশে নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা বাড়ে, তখন বিদেশি মিশনগুলি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়।”
ভবিষ্যতে কী হতে পারে?
পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফের স্বাভাবিক ফ্যামিলি পোস্টিং চালু হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তার জন্য নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকে, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে দিল্লি কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
