
ঢাকা: বাংলাদেশের ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া (rickshaw driver)উপজেলায় একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত রোববার রাতে দাগনভূঁইয়া হাসপাতালের কাছে এক হিন্দু অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম সমীর কুমার দাস, বয়স ২৮ বছর। তিনি মাতুভূঁইয়া ইউনিয়নের রামানন্দপুর গ্রামের জেলে বাড়ির কার্তিক কুমার দাসের ছেলে।
খুনিরা তাকে হত্যা করার পর তার অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।ঘটনার বিস্তারিত জানা যায় যে, সমীর কুমার দাস রাতে তার অটোরিকশা চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হাসপাতালের কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটকে দেয়। তারা প্রথমে তাকে মারধর করে এবং পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে।
মমতার আপত্তি খারিজ! বহুতল আবাসনেই পোলিং বুথ, কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত বিজেপির
রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে খুনিরা তার অটোরিকশা নিয়ে স্থান ত্যাগ করে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।দাগনভূঁইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানিয়েছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত হামলা বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে। দেশীয় অস্ত্র যেমন ছুরি বা চাপাতি ব্যবহার করে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সাক্ষীদের বয়ান সংগ্রহ করছি। খুনিদের শীঘ্রই শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে।” পুলিশের ধারণা, এর পিছনে সম্ভবত ছিনতাই বা ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকতে পারে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছিল না, কিন্তু এমন ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।নিহত সমীরের পরিবার এই ঘটনায় গভীর শোকে মুহ্যমান। তার বাবা কার্তিক কুমার দাস বলেন, “আমার ছেলে কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা করেনি। সে শুধু তার অটো চালিয়ে সংসার চালাত।
খুনিরা তার অটো নিয়ে গেছে, যা তার জীবিকার একমাত্র উপায় ছিল।” পরিবারের দাবি, এটি শুধু খুন নয়, ছিনতাইয়ের ঘটনাও। সমীরের স্ত্রী এবং ছোট ছেলের উপর এখন অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সমাজকর্মীরা পরিবারকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।এই ঘটনা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
যদিও পুলিশ এটাকে সাম্প্রদায়িক বলে মানতে চাইছে না, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কয়েকটি হামলার খবর এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এমন ঘটনাগুলোতে দ্রুত বিচার না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। ফেনী জেলা প্রশাসন এই ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য সভা-সমিতির আয়োজন করছে।










