চট্টগ্রামে ফের হিন্দু হত্যায় ছড়াল চাঞ্চল্য

ঢাকা: ময়মনসিংহের ভালুকায় আনসার সদস্যের (Hindu killing)গুলিতে সহকর্মী নিহতের ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় লাবিব গ্রুপের অধীনে সুলতানা সুয়েটার্স লিমিটেড নামক…

hindu-killing-bangladesh-mymensingh-ansar-shooting

ঢাকা: ময়মনসিংহের ভালুকায় আনসার সদস্যের (Hindu killing)গুলিতে সহকর্মী নিহতের ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় লাবিব গ্রুপের অধীনে সুলতানা সুয়েটার্স লিমিটেড নামক একটি পোশাক কারখানায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত বজেন্দ্র বিশ্বাস (প্রায় ৪০-৪২ বছর বয়সী) একজন আনসার সদস্য ছিলেন, যিনি কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

Advertisements

তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় এই ঘটনা সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যদিও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটিকে অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।ঘটনার বিবরণ অনুসারে, কারখানায় মোট ২০ জনের মতো আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে বজেন্দ্র বিশ্বাস এবং তার সহকর্মী নোমান মিয়া (২২) একসঙ্গে বসে ছিলেন।

   

SIR শুনানিতে ডাক! বিজেপির উপর ক্ষেপলেন জয় গোস্বামী

নোমানের হাতে থাকা শটগান থেকে হঠাৎ গুলি বের হয়ে যায়, যা বজেন্দ্রের বাম উরুতে লাগে। গুলির আঘাতে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সহকর্মীরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।নিহত বজেন্দ্র বিশ্বাস সিলেট সদর উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের পবিত্র বিশ্বাসের ছেলে।

তিনি একজন দায়িত্বশীল আনসার সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত নোমান মিয়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার বালুটুরি বাজার এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নোমানকে গ্রেফতার করে। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে এটি অসাবধানতাজনিত দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে, তবে তদন্ত চলছে।

কোনো অভিযোগ বা বিরোধের ইতিহাস ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বাংলাদেশে আনসার বাহিনী একটি আধা-সামরিক বাহিনী, যারা গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের সঙ্গে মিলে কারখানা, ব্যাংক, নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা প্রদান করে।

অনেক ক্ষেত্রে তাদের অস্ত্র বহনের অনুমতি থাকে। কিন্তু অস্ত্রের অসাবধান ব্যবহারে এমন দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়া নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানার ভেতরে আনসার সদস্যদের জন্য আলাদা ঘর ছিল, যেখানে তারা বিশ্রাম নিতেন। ঘটনার সময় তারা সেই ঘরেই বসে ছিলেন।

Advertisements