ঢাকা: ফের ওপার বাংলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন এক হিন্দু ব্যবসায়ী (Gazipur)। বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জে পিটিয়ে খুন করা হল স্থানীয়ভাবে পরিচিত হিন্দু মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র ঘোষ (৫৫), যিনি এলাকায় ‘কালী ময়রা’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সহনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নিহত কালী ঘোষ ছিলেন কালীগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন বড়নগর সড়কে অবস্থিত ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’-এর মালিক। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার সূত্রে তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টা নাগাদ দোকানের এক কিশোর কর্মীকে মারধর করছিলেন স্থানীয় যুবক মাসুম মিয়া। সেই সময় কর্মীকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান কালী ঘোষ।
হেভিওয়েট বিজেপি নেতার বাড়িতে শুনানি নোটিস!কি প্রতিক্রিয়া দলে?
অভিযোগ, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাসুম মিয়া (২৮)। এরপর তিনি তার বাবা স্বপন মিয়া (৫৫) এবং মা মাজেদা খাতুন (৪৫)-কে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কালী ঘোষের উপর হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্তরা কালী ঘোষকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে বেলচা দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা তিন অভিযুক্তকেই আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। অভিযুক্তদের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার বালীগাঁও এলাকায় বলে জানা গেছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, “ঘটনার পরপরই তিনজন অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পেছনের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর কালীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং পূর্ববিদ্বেষ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় হিন্দু নেতাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের আরও কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁদের মতে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ড আবারও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন আবহে এ ধরনের সহিংসতা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলেই তাঁদের আশঙ্কা।
এদিকে কালী ঘোষের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কালীগঞ্জ এলাকায়। তাঁর দোকান বন্ধ, এলাকায় থমথমে পরিবেশ। বহু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে কীভাবে এমন নৃশংস পরিণতি হতে পারে? এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন ব্যবসায়ীর প্রাণহানিই নয়, বরং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও দেশের সাম্প্রদায়িক সহাবস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।
