
নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমসারির এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং ‘মব মেন্টালিটি’ বা গণপিটুনি সংস্কৃতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যা রাষ্ট্রের সরাসরি ব্যর্থতাকেই তুলে ধরছে। হিন্দুদের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানান, কট্টরপন্থী মতাদর্শকে প্রশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী চরিত্র মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।
নয়াদিল্লিকে শক্ত অবস্থানে থাকার আহ্বান
শেখ হাসিনা এই সাক্ষাৎকারে ভারতের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এবং গণতন্ত্র ও সংখ্যালঘু সুরক্ষায় নয়াদিল্লিকে শক্ত অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ইউনূস প্রশাসন নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে পরিকল্পিতভাবে ভারত-বিদ্বেষী মনোভাব উসকে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির এই অবক্ষয় কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষতি করছে না, বরং প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ফাটল ধরাচ্ছে।
সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও ভারত-বাংলাদেশ টানাপোড়েন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে উগ্রপন্থীদের বিক্ষোভ আদতে একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনূস সরকার চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছে এবং তাদের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দায়মুক্তি দিচ্ছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মতে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভারত তাদের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা দাবি করার পূর্ণ অধিকার রাখে। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের নাম করে কোনো বিদেশি মিশনের ওপর হামলা চালানো বা ভয় দেখানো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিয়ে সন্দিহান Hasina blames Yunus for Hindu attacks
আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানান, মূল প্রশ্ন তিনি নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না তা নয়, বরং সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন কি না সেটাই আসল। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে যদি নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়, তবে সেই নির্বাচনের কোনো আইনি বা নৈতিক বৈধতা থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন মানেই হলো কোটি কোটি মানুষকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
পরিশেষে, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনীন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একটি নির্বাচিত ও দায়িত্বশীল সরকারই কেবল উগ্রবাদকে দমন করে সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা কেবল দেশটির জনগণের জন্যই নয়, বরং ভারত ও সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার স্বার্থেই জরুরি বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।






