রক্ষকই ভক্ষক? বাংলাদেশে দিপু হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তসলিমা

dipu-chandra-das-lynching-taslima-nasrin-allegation

নয়াদিল্লি: হিন্দু বিদ্বেষীদের রোষে মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহের দিপু চন্দ্র দাসের (Dipu Chandra Das)। হিন্দু বিদ্বেষী মৌলবাদীরা তাকে পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে তার দেহে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আর সেই দৃশ্য চোখ চেয়ে গিলতে থাকে নরপিশাচরা। বন্দি করে মুঠোফোনে। কিন্তু দিপুর মৃত্যুর জন্য দায়ী কে তা ফাঁস করলেন নির্বাসিত ওপার বাংলার সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন দিপু চন্দ্র দাসকে যাঁরা হত্যা করেছে, তারা বাইরে থেকে হঠাৎ এসে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়নি।

বরং তাঁর কর্মস্থল থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হিন্দু বিদ্বেষী মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তসলিমা লিখেছেন, দীপুর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের প্রমাণ ছিল না। কারখানার কয়েকজন শ্রমিকের ছড়ানো গুজবের জেরেই তাঁকে চাপ দিয়ে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়।

   

পেনশনভোগীদের জন্য বড় খবর! ফিরছে কি Old Pension Scheme? সরকারের বড় বক্তব্য

তসলিমার দাবি, ফ্লোর ম্যানেজার জানতেন যে কারখানার বাইরে একদল উন্মত্ত মানুষ অপেক্ষা করছে। তা সত্ত্বেও তিনি পুলিশে খবর না দিয়ে দরজা খুলে দেন। এরপরই বাইরে থাকা জনতা দিপুকে ধরে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। লেখিকার ভাষায়, “ক্ষুধার্ত শকুনেরা অপেক্ষা করছিল, আর দরজা খুলে দেওয়ামাত্রই তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে।”

এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তসলিমা নাসরিন উল্লেখ করেছেন, দীপুকে মারধর করে একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর দেহে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই নৃশংস দৃশ্য মোবাইল ফোনে বন্দি করা হয়, আর উপস্থিত জনতা নির্বিকারভাবে সেই দৃশ্য উপভোগ করে। তসলিমার অভিযোগ অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড কোনও হঠাৎ উত্তেজনার ফল নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক ঘৃণার পরিণতি।

তসলিমা নাসরিন এই প্রসঙ্গে অতীতের আরেকটি ঘটনাও টেনে আনেন। তিনি উৎসব মণ্ডলের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লেখেন, তখনও পুলিশ হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তিকে উন্মত্ত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই উৎসব মণ্ডলের উপর নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এই উদাহরণ তুলে ধরে তসলিমা প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশে খবর দিলেই বা দিপুর জীবন রক্ষা পেত কি না, যখন অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

তসলিমা নাসরিনে আরও বলেছেন বাংলাদেশে দিন দিন কট্টরপন্থা বাড়ছে এবং তার সঙ্গে সমানতালে বাড়ছে হিন্দু বিদ্বেষ। তাঁর অভিযোগ, ছলে-বলে-কৌশলে সংখ্যালঘু হিন্দুদের টার্গেট করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই ধরনের মৌলবাদী গোষ্ঠীর একটি অংশ বিশ্বাস করে যে হিন্দু হত্যা করলে তারা ধর্মীয় পুরস্কার পাবে যা সমাজের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর ইঙ্গিত।

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও এই নির্দিষ্ট অভিযোগগুলির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দিপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড যে শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং একটি গভীর সামাজিক সংকটের প্রতিফলন সেই বার্তাই আরও একবার সামনে এনে দিলেন তসলিমা নাসরিন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন