
ঢাকা: ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদির জানাজাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে (Dhaka parliament attack)। গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের এই প্রভাবশালী নেতা। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে অস্থিরতা শুরু হয়। শুক্রবার রাতে প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন মিডিয়া হাউসে আগুন, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
অনেকে এগুলোকে র্যাডিক্যাল গ্রুপের কাজ বলে অভিহিত করেছেন। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়।জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থকরা জড়ো হতে থাকেন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং সংসদ এলাকায়।
বিশ্বকাপের আগে মেসি বনাম ইয়ামাল দ্বৈরথ্য! কবে ও কোথায়? প্রকাশ্যে দিনক্ষণ
‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। অনেকে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। জানাজা শেষে একদল উত্তেজিত সমর্থক সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। তাদের দাবি হাদির হত্যার বিচার এবং দেশে শরিয়াভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা। প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে, উত্তেজিত জনতা সংসদ ভবনের কিছু অংশে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং লুটপাটের চেষ্টা করেছে। যদিও সরকারি সূত্র এখনও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও বক্তব্য দেয়নি।হাদি ছিলেন ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা। শেখ হাসিনার সরকার পতনের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
কট্টর ভারতবিরোধী অবস্থান এবং র্যাডিক্যাল ইসলামি মতাদর্শের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি। আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে অভিযোগ করেন, এটা একটা পরিকল্পিত হত্যা এবং পিছনে শক্তিশালী মহল জড়িত। ইউনূস সরকার দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেও সমর্থকরা মানছেন না।










