ঢাকা: রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় শুক্রবার (BNP leader) ভোররাতে একটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। করিম ফিলিং স্টেশনের ৩০ বছরের কর্মী রিপন সাহা (পিতা: পবিত্র সাহা, গ্রাম: সাহাপাড়া, খানখানাপুর ইউনিয়ন) টাকা না দিয়ে চলে যাওয়া একটি গাড়ি আটকাতে গিয়ে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এই ঘটনায় গাড়ির মালিক আবুল হাসেম সুজন (৫৫), যিনি রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা যুবদলের প্রাক্তন সভাপতি, এবং গাড়ির চালক কামাল হোসেনকে পুলিশ আটক করেছে।
পুলিশ ও স্টেশন কর্মচারীদের বরাতে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ একটি কালো রঙের ল্যান্ড ক্রুজার জিপ (নম্বর: ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৩৪৭৬) স্টেশনে এসে প্রায় ৫ হাজার টাকার জ্বালানি তেল নেয়। তেল ভরার পর গাড়ির মালিক আবুল হাসেম সুজন টাকা না দিয়েই গাড়িতে উঠে পড়েন এবং চালক দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
দীর্ঘ বঞ্চনা কাটিয়ে উত্তরবঙ্গের হাইকোর্ট দর্শন
রিপন সাহা টাকা দাবি করে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেন। কিন্তু গাড়িটি না থেমে তাঁকে চাপা দিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দিকে চলে যায়।সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় গাড়ির পাশে রিপন ও আবুল হাসেম দাঁড়িয়ে আছেন। তেল নেওয়ার পর হাসেম গাড়িতে উঠে পড়েন এবং গাড়ি চলতে শুরু করলে রিপন পিছু নেন। প্রায় ১০০ গজ দূরে মহাসড়কে গাড়িটি রিপনকে চাপা দেয়। তার মাথা ও মুখ থেঁতলে যায়।
অন্য কর্মচারী জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে রিপনের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহ উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং ময়নাতদন্তের পর রাতেই পরিবারের হাতে দেওয়া হয়।আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বিকেলে আবুল হাসেম সুজনকে তার বাড়ি বড় মুরারিপুর গ্রাম থেকে এবং চালক কামালকে আটক করা হয়। রাতে রিপনের ছোট ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এটিকে সাধারণ অপরাধের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের অংশ বলে দাবি করছেন।
রিপন সাহা একজন সাধারণ পরিশ্রমী যুবক ছিলেন, যিনি পরিবারের ভরণপোষণের জন্য রাত-দিন কাজ করতেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা শুধু একটি জীবন কেড়ে নেয়নি, সমাজে ভয় ও অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা কনভেনর খায়রুল আনাম বাকুল বলেছেন, আবুল হাসেম সুজন অনেক আগেই দল থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং বর্তমানে দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
