
দিনভর ভারত বয়কটের ডাক, রাতে লুঙ্গি ডান্স এই বিপরীত চিত্র ঘিরে তীব্র (Bangladesh student)বিতর্কে জড়িয়েছেন বাংলাদেশের এক ছাত্রনেতা। নাম সালাহ উদ্দিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বেশি পরিচিত “সালাহ উদ্দিন আম্মা” নামে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা ইসলামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র ভারতবিরোধী বক্তব্যের জন্য আলোচনায়।
দিনভর মিছিল–বিক্ষোভে ভারত বয়কটের ডাক, ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান, এমনকি ভারত ভাগের হুঁশিয়ারির মতো বক্তব্য রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অথচ সেই একই ব্যক্তির একটি নাচের ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠছে এ কেমন দ্বিচারিতা?
এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে নাক কাটল ব্যাটে-বলে ব্যৰ্থ ভারতের
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সঙ্গীদের সঙ্গে নাচে মেতে উঠেছেন সালাহ উদ্দিন। গানের তাল হিন্দি ছবির রোহিত শেট্টি পরিচালিত ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘লুঙ্গি ডান্স’। হানি সিংয়ের গাওয়া এই গান বলিউডের অন্যতম পরিচিত ট্র্যাক। ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় ছবির সেই গানের তালে তালে কোমর দোলাচ্ছেন ভারতবিদ্বেষী বলে পরিচিত ছাত্রনেতা। গানটি তাঁর মুখস্থ এমন মন্তব্যও উঠেছে নেটদুনিয়ায়।
এই ভিডিও সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, যিনি দিনভর ভারত বয়কটের ডাক দেন, ভারতীয় সংস্কৃতি ও বিনোদনের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন, তিনিই আবার রাতে ভারতীয় গানে নাচছেন—এ কি আদর্শগত ভণ্ডামি নয়? কেউ কেউ কটাক্ষ করে লিখেছেন, “মুখে ভারতবিরোধিতা, আর মনেপ্রাণে বলিউড।” আবার সমর্থকদের একাংশ বলছেন, নাচ-গান ব্যক্তিগত বিষয়, রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে তাকে গুলিয়ে দেখা ঠিক নয়।
এই বিতর্কের মাঝেই উঠে এসেছে আরও সংবেদনশীল প্রসঙ্গ। পদ্মাপাড়ের ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে তখন তোলপাড় বাংলাদেশ। অভিযোগ, আততায়ীরা আচমকা গুলি করে তাঁকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়।
সেই বিক্ষোভের সামনের সারিতেই ছিলেন সালাহ উদ্দিন। সেখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়ানো হয়, ভারত ভাঙার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও ওই সময় হাদির মৃত্যুর খবর পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল না। পরে সিঙ্গাপুর থেকে মৃত্যুর খবর আসতেই পরিস্থিতি আরও উত্তাল হয়ে ওঠে।
এরই মধ্যে ভাইরাল হয় সালাহ উদ্দিন আম্মার ‘লুঙ্গি ডান্স’। সমালোচকরা বলছেন, হাদির মৃত্যুর আবহে এমন “মোচ্ছব” অত্যন্ত অসংবেদনশীল। কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন, হাদির দেহ কবরে যাওয়ার আগেই এই নাচে মেতে ওঠেন তিনি। তবে পাল্টা মতও রয়েছে। অনেকে বলছেন, ভিডিওটি হাদির কবরস্থ হওয়ার আগের, আবার একাংশের মতে এটি পুরনো ভিডিও, সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে এর সরাসরি যোগ নেই।
ভাইরাল ভিডিওর সময়কাল ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নানা দাবি-প্রতিদাবি চললেও, এখনও পর্যন্ত ভিডিওটির সত্যতা বা সময় নির্ধারণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি Kolkata24x7। তবু তর্ক-বিতর্ক থামছে না। একদিকে ভারতবিরোধী রাজনীতি, অন্যদিকে ভারতীয় গানে নাচ—এই দ্বৈত আচরণই এখন সালাহ উদ্দিন আম্মাকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রে। এই বিতর্ক ছাত্ররাজনীতিতে আদর্শ, আচরণ এবং বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।










