ঢাকা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে (Bangladesh)। ভারতের তরফে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো সত্ত্বেও, ঢাকার অবস্থান ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস প্রশাসন স্বীকার করেছে যে ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে জড়িত মোট ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য তাদের নথিতে রয়েছে।
তবে বিস্ময়ের বিষয়, এর মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনাকেই তারা ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে স্বীকার করেছে। বাকি ঘটনাগুলিকে ‘অ-সাম্প্রদায়িক’ বা অন্য কোনও কারণে ঘটে যাওয়া ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, প্রশাসনিক শব্দচয়নের আড়ালে হিন্দুদের উপর হওয়া নির্যাতনের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাকে ‘নন-কমিউনাল’ তকমা দিলে তার গুরুত্ব কমে যায় এবং আন্তর্জাতিক চাপও অনেকটাই হালকা হয়।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি, রাজ্যে এল ১২ জন রোল অবজ়ারভার
ভারতের তরফে কূটনৈতিক স্তরে একাধিকবার এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বাংলাদেশে মন্দির ভাঙচুর, হিন্দু বসতিতে হামলা, জোর করে জমি দখল এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেলে চলবে না, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই আসল পরীক্ষা।
অন্যদিকে, ইউনুস প্রশাসনের যুক্তি, সব ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক বলা ঠিক নয়। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি সংক্রান্ত বিবাদ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জেরে হিংসা হয়েছে, যার সঙ্গে ধর্মের সরাসরি যোগ নেই। সেই কারণেই তারা অধিকাংশ ঘটনাকে ‘নন-কমিউনাল’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
তবে এই ব্যাখ্যাকে অনেকেই ‘হোয়াইটওয়াশ’ বলে কটাক্ষ করছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণ যদি একই সময় ও একই সামাজিক প্রেক্ষাপটে ঘটে, তাহলে সেগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দেখানো বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁদের আশঙ্কা, এই ধরনের ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশের ভিতরেও এই ইস্যুতে দ্বিমত রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের দাবি, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। তাঁরা বলছেন, হামলার প্রকৃত সংখ্যা ও চরিত্র স্বীকার না করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আবার শাসক শিবিরের সমর্থকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যই সরকার সতর্ক ভাষা ব্যবহার করছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সুরক্ষা একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ঢাকার তরফে যদি বারবার ঘটনাকে ‘অ-সাম্প্রদায়িক’ বলে খাটো করা হয়, তবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের উপর হওয়া ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টিকে সাম্প্রদায়িক বলে স্বীকার করার সিদ্ধান্ত ইউনুস প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এটি কি নিছক প্রশাসনিক শ্রেণিবিভাগ, নাকি বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা এই প্রশ্নই এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ যে এখনও কাটেনি, তা এই বিতর্কই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
