
ঢাকা: বাংলা সংস্কৃতি কি অপরাধ হয়ে যাচ্ছে? গান (Bangladesh)কি মৃত্যুদণ্ডের কারণ হতে পারে? এই প্রশ্নগুলো আজ আর কল্পনা নয়, বাস্তব আতঙ্ক। বাংলাদেশের এক সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর প্রকাশ্য মন্তব্য লোকগায়কদের হত্যা করা উচিত, কারণ লোকসংগীত তাঁর মতে “ইসলামবিরোধী” সমগ্র উপমহাদেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।
কূনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে আইনের সর্বোচ্চ আসনের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি যখন শিল্প ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রক্তের আহ্বান জানান, তখন তা কেবল একটি উগ্র মত নয়, বরং চরমপন্থার নগ্ন রূপ। এটি প্রমাণ করে, ইসলামি মৌলবাদ আর মুখোশ পরে নেই।
উত্তাল বাংলাদেশ! গণপিটুনির পর জ্যান্ত পোড়ানো খোকন দাসের মৃত্যু
তারা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে শিল্প অপরাধ, সংস্কৃতি ধর্মদ্রোহ, আর সুর মানেই মৃত্যুদণ্ড। লোকসংগীত বাংলার আত্মা। রাজনৈতিক ইসলাম আসার বহু আগেই এই গান জন্ম নিয়েছে লালন, হাসান রাজা, শাহ আবদুল করিমের দর্শন বাংলার মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে আছে। সেই ঐতিহ্যকে “অপরাধ” বলে দাগিয়ে দেওয়া মানে ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য আসলে একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। প্রথমে শিল্প, তারপর সংস্কৃতি, শেষে মানুষ। লক্ষ্য একটাই ভিন্ন মত, ভিন্ন বিশ্বাস ও বহুত্ববাদকে নিশ্চিহ্ন করা। এবং এটা স্পষ্ট করে বলা দরকার, এই উন্মাদনা শুধু লোকগায়কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় গত এক দশকের বেশি সময় ধরে একই ধরনের ইসলামি উগ্রতার শিকার।
তারা আরও মন্তব্য করেছেন, মন্দির ভাঙচুর হয়েছে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরুষদের পিটিয়ে মারা হয়েছে। নারীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরিচয়টাই অপরাধে পরিণত হয়েছে। আজ টার্গেট লোকগায়ক। গতকাল ছিল হিন্দু, আগামীকাল হবে যে কেউ, যে মাথা নত করবে না। এটি কোনওভাবেই ধর্মীয় স্বাধীনতা নয়। এটি এক ধরনের ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ, যেখানে ভয় দেখিয়ে শাসনই একমাত্র লক্ষ্য।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হল যখন আদালতের সঙ্গে যুক্ত একজন আইনজীবী প্রকাশ্যে গণহত্যার ডাক দেন, তখন বোঝা যায় চরমপন্থা কত গভীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ ন্যায়বিচার রক্ষা করা, সেখানেই যদি ঘৃণা বাসা বাঁধে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, এই মুহূর্তে নীরবতা মানে সহমত। আপস মানে আত্মসমর্পণ। যদি এখনই ইসলামি চরমপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান না নেওয়া হয়, তাহলে শুধু বাংলা সংস্কৃতি নয় মানবতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং সামাজিক সহাবস্থান সবই বিপন্ন হবে।










