বাংলাদেশে মৌলবাদী হামলায় হাসপাতালে মৃত্যু খোকনের

ঢাকা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা যেন থামছেই না (Bangladesh)। শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলায় ওষুধ ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করে পেট্রল ঢেলে…

bangladesh-hindu-attack-shariatpur

ঢাকা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা যেন থামছেই না (Bangladesh)। শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলায় ওষুধ ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ৩ জানুয়ারি সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৫০ বছর বয়সী এই হিন্দু ব্যবসায়ী।

Advertisements

এই ঘটনা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে ইন্টারিম সরকারের আমলে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার সিরিজ চলছে।৩১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে নয়টার দিকে কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙা বাজারে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে এই ভয়াবহ হামলা হয় খোকন চন্দ্র দাসের উপর।

   

আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই পর পর বিস্ফোরণে কাঁপল কারাকাস

তিনি ওষুধের দোকান এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করতেন। অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা রিকশা থামিয়ে তাঁকে নামিয়ে নেয়। প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়, তারপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে খোকন কাছের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মাথা, মুখ, হাত এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর দগ্ধ হয়েছিল তাঁর।খোকনের স্ত্রী সীমা দাসের অভিযোগ, স্বামী হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনকে চিনে ফেলেছিলেন, তাই তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, “আমাদের কোনও শত্রু নেই, কারও সঙ্গে বিরোধ নেই। আমরা হিন্দু, শান্তিতে বাঁচতে চাই।

কেন এমন হল বুঝতে পারছি না।” পরিবারের সদস্যরা জানান, খোকন শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন, কোনও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। হামলার পর পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামি করা হয়েছে স্থানীয় সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা এবং পলাশ সরদারকে।

পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ডামুড্যা থানার ওসি বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।” শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন খোকনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই হামলা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার সিরিজের অংশ।

গত দু’সপ্তাহে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বড় হামলা। ডিসেম্বরে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে মেরে মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। রাজবাড়িতে অমৃত মণ্ডলকে চাঁদাবাজির অভিযোগে লিঞ্চিং করা হয়। ময়মনসিংহে বজেন্দ্র বিশ্বাসকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইন্টারিম সরকারের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন বেড়েছে। ভারত সরকারও বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মতে, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা বেড়েছে। অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থান এর পিছনে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এসব ঘটনাকে ‘বিক্ষিপ্ত’ বলে উড়িয়ে দিলেও সমালোচনা কমছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

Advertisements