দিপুর পর এবার মৌলবাদীদের হিন্দু শিকার গোপাল

bangladesh-hindu-attack-gopal-biswas-after-dipu-killing

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা যেন থামছেই না (Bangladesh Hindu attack)। ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার পর এবার আরেকটি চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। এক নিরীহ হিন্দু রিকশাচালক গোপাল বিশ্বাসকে নিশানা করা হয়েছে শুধুমাত্র হাতে লাল সুতো পরার জন্য। অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে ‘র’-এর এজেন্ট বলে সন্দেহ করে উত্তেজিত জনতা বেধড়ক মারধর করেছে।

নির্দোষ প্রমাণের জন্য কাকুতি-মিনতি করলেও কোনও লাভ হয়নি। মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়েছে, শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি, জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।এই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে চলতে থাকা অস্থিরতার মাঝে। গত ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয় এবং মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

   

এভারেস্টের দেশে মশাল-কন্যাদের সাফ জয়

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গোপাল বিশ্বাসের ওপর এই হামলা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপাল একজন সাধারণ রিকশাচালক। দৈনন্দিন রোজগারে সংসার চালান। হিন্দু ধর্মানুসারে হাতে লাল সুতো পরা তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস। কিন্তু চলতি উত্তেজনার মাঝে এটাকেই সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচার করা হয়েছে।

ফলে উত্তেজিত একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে।গোপালের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি বারবার নির্দোষ বলে চিৎকার করেছেন। “আমি তো সাধারণ রিকশাচালক, কোনও রাজনীতি করি না, কোনও এজেন্ট নই” এমন কথা বললেও কানে তোলেনি হামলাকারীরা। লাঠি, রড দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, রক্তে ভেসে যায় শরীর। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, অবস্থা আশঙ্কাজনক। মাথায় গভীর ক্ষত, অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ঘটনা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার পর অনেকে আশা করেছিলেন প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু গোপাল বিশ্বাসের ওপর হামলা দেখে মনে হচ্ছে, উত্তেজনা এখনও থামেনি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরে বলা হচ্ছে, এমন হামলা শুধু বিচ্ছিন্ন নয়, এর পিছনে একটা প্যাটার্ন রয়েছে। সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতীক—যেমন লাল সুতো, টিকা বা পূজার সামগ্রী—কে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। অনেকে এটাকে ‘সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা’ বলে অভিহিত করছেন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন