বাংলাদেশ হাই কমিশনে হাদির ভাইকে বড় দায়িত্ব ইউনূসের

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে (Bangladesh)একটি নিয়োগের ঘোষণা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার নেতৃত্বে আছেন নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস, শহীদ শরীফ উসমান বিন হাদির…

bangladesh-high-commission-appointment

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে (Bangladesh)একটি নিয়োগের ঘোষণা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার নেতৃত্বে আছেন নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস, শহীদ শরীফ উসমান বিন হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদিকে ব্রিটেনের বার্মিংহামে বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ করেছে। এই নিয়োগ চুক্তিভিত্তিক এবং তিন বছরের জন্য কার্যকর।

Advertisements

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বিদেশি নিয়োগ শাখা থেকে ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬-এ এই নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে। নোটিফিকেশনটি স্বাক্ষর করেছেন যুগ্ম সচিব আবুল হায়াত মোঃ রফিক, রাষ্ট্রপতির আদেশে।ওমর বিন হাদি এই পদে যোগদানের তারিখ থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের শর্ত অনুসারে, তিন বছরের মেয়াদে তিনি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো চাকরির সম্পর্ক রাখতে পারবেন না।

   

অনুশীলনে এসে মিগুয়েলের সান্নিধ্য পেলেন লাল-হলুদের ছোট্ট রিদীপ

অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকবে। বর্তমানে বার্মিংহাম মিশনে দ্বিতীয় সচিবের কোনো অনুমোদিত পদ না থাকলেও, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগের ক্ষেত্রে পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি হয় বলে বিদেশ মন্ত্রণালয়ের একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন।এই নিয়োগের পটভূমি খুবই স্পর্শকাতর। ওমরের ছোট ভাই শরীফ উসমান বিন হাদি (ওসমান হাদি) ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র।

তিনি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা ছিলেন, যা শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। উসমান হাদি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ, ভারতীয় প্রভাবের বিরোধিতা এবং জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।

১২ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ ঢাকার পল্টন এলাকায় জুম্মার নামাজের পর রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে তাঁকে হত্যা করা হয়। মাথায় গুলি লাগায় তিনি গুরুতর আহত হন, সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর মারা যান।

এই হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, হিংসা এবং অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যমের অফিসে হামলা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ এবং ভারতীয় দূতাবাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়। হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রীয় জানাজা হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেয়, কিন্তু ওমর বিন হাদি সরকারের একাংশকে দায়ী করে বলেন, “আপনারাই উসমান হাদিকে হত্যা করেছেন, এখন এটাকে ব্যবহার করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন।” তিনি দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেন যে, ন্যায় না পেলে সরকারকেও দেশ ছাড়তে হবে।

Advertisements