বাংলাদেশে ফের মৌলবাদী হুমকির ঘটনায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজে (Bangladesh)। “মন্দির ভাঙবার জন্যই তৈরি হয়েছে”, “বাংলাদেশে কোনো হিন্দু থাকতে পারবে না”, “কোনো ইসকন থাকবে না” এই ধরনের প্রকাশ্য হুমকি ও ঘৃণামূলক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি ভিডিও ও প্রত্যক্ষ বক্তব্যের সূত্র ধরে এই উসকানিমূলক কথাবার্তা সামনে আসতেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
Translation : In Bangladesh, temples are for destruction, their idols are for destruction. No Hindu can live in Bangladesh, no ISKCON can live, Delhi’s brokers go to Delhi. pic.twitter.com/L38p6bvGZs
— Voice Of BD Hindus 🇧🇩 (@ItzBDHindus) January 16, 2026
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজধানী ঢাকায় একটি মৌলবাদী গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য প্রকাশ্যে সমাবেশ করে এই ধরনের বক্তব্য রাখে। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয় এই বক্তব্যে শুধু ধর্মীয় বিদ্বেষই নয়, সরাসরি হিংসার উসকানির সুরও স্পষ্ট বলে মনে করছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলি।
সমুদ্রের তলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল মার্কিন উপকূল
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হিন্দু পরিবারগুলি। বহু পরিবার রাতারাতি এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা যাচ্ছে। অতীতেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মন্দির ভাঙচুর, প্রতিমা ভাঙা, বাড়িঘরে আগুন লাগানো, জোরপূর্বক জমি দখলের মতো অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হুমকি ফের সেই পুরনো ক্ষতকে উসকে দিল বলেই মত কূটনীতিকদের।
ইসকন (ISKCON) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, সংগঠনের মন্দির ও আশ্রমগুলির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় সহাবস্থানের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যে পরিচিতি ছিল, মৌলবাদী শক্তির লাগাতার উত্থানে তা গুরুতরভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। একইসঙ্গে তাঁরা অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও কম নয়। ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠন এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের মতে, এটি কেবল বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য বিপজ্জনক বার্তা। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও বিষয়টি কূটনৈতিক স্তরে নজরে রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
বাংলাদেশ সরকার যদিও বারবার দাবি করেছে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়া তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং কোনও মৌলবাদী হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু বাস্তবে বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের মতে, শুধু বিবৃতি নয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাই একমাত্র সমাধান।


