তাবলিগ জামাতের নাম করে বাংলাদেশে বেলাগাম জঙ্গি অনুপ্রবেশ

ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে (Bangladesh)নিরাপত্তা ও নির্বাচনকেন্দ্রিক উদ্বেগ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তাবলিগ জামাতের নাম ব্যবহার করে পাকিস্তানি জঙ্গিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে…

bangladesh-election-security-alert-terror

ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে (Bangladesh)নিরাপত্তা ও নির্বাচনকেন্দ্রিক উদ্বেগ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তাবলিগ জামাতের নাম ব্যবহার করে পাকিস্তানি জঙ্গিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে করাচি থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে এই অনুপ্রবেশ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisements

সূত্র অনুযায়ী, এই প্রবেশ কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অস্ত্র পাচার, প্রশিক্ষিত জনবল এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের দাবি, ইতিমধ্যেই বিশেষ বিমানে করে পাকিস্তান থেকে অস্ত্র দেশে এসেছে এবং অস্ত্রচালনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাবলিগের ছদ্মবেশে বিভিন্ন এলাকায় ঢুকছে।

   

বিজাপুরে খতম মাওবাদীদের বড় মাথা দিলীপ বেড়জা

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে এসেছে যে, ইউনুস সরকারের অধীনে একটি বিশেষ বিমান পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য নাকি নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারি স্তরে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও আসেনি, তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা জরুরি।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য অস্থিরতার আশঙ্কা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের দাবি, ভোটের আগে জঙ্গিদের ‘শোডাউন’ হতে পারে এবং সারাদেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলতে পারে। এমনকি সেনাবাহিনীর কিছু অংশ এই জঙ্গি নেটওয়ার্ককে দিকনির্দেশনা দিতে পারে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও এটি সম্পূর্ণভাবে সূত্রভিত্তিক দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে যে, উশৃঙ্খল নন-ভোটার যুবকদের দিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া, ভয় দেখানো এবং অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শনের মাধ্যমে ভোট বাক্স জোরপূর্বক পূর্ণ করার চেষ্টা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অভিযোগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ইঙ্গিত বহন করে। নির্বাচন মানেই যেখানে নাগরিকের স্বাধীন মতপ্রকাশ, সেখানে ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হলে পুরো ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, দেশের নিরাপত্তা, ভোটের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় এখনই সতর্ক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা, বিমান চলাচল ও যাত্রী যাচাই আরও কঠোর করা এবং গোয়েন্দা তথ্যের নিরপেক্ষ তদন্ত এই সবকিছুই জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

Advertisements