ঢাকা:পদ্মাপারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে (Bangladesh election)রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে এবং সেই সঙ্গে রয়েছে সংশয়ও। এই আবহেই বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র হিন্দু প্রার্থী অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
এই আসনটি পূর্বে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছিল এবং এখানে হিন্দু ভোটারদের সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি। প্রামাণিক বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোতের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব এবং একজন প্রখ্যাত আইনজীবী।
২০২৭ অর্ধকুম্ভে অহিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ধামির ডবল ইঞ্জিনের
তাঁর মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর এবং যাচাই-বাছাই চলছে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
গোবিন্দ প্রামাণিক ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু শনিবার রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে যে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসনের অন্তত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা পূরণ হয়নি স্বাক্ষরগুলো অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে।
প্রামাণিক অভিযোগ করেছেন যে, তিনি নিয়ম মেনে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)-র কর্মীরা স্বাক্ষরদাতাদের হুমকি দিয়ে রিটার্নিং অফিসারের সামনে স্বাক্ষর অস্বীকার করতে বাধ্য করেছে।
তিনি বলেন, “আমি স্থানীয় সমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচনে লড়তে চেয়েছিলাম। এই আসনে হিন্দু ভোটাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্তু এভাবে মনোনয়ন বাতিল করে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর সমর্থকরা এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন এবং আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।এই ঘটনা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ বেড়েছে। অনেকে মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু প্রার্থীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিছু বাংলাদেশি মিডিয়া এবং রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে যে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের নির্দেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন ব্যাপকভাবে বাতিল করা হচ্ছে যাতে বিএনপি-র পথ সুগম হয়। যদিও এই অভিযোগের সরাসরি প্রমাণ নেই, তবে জামায়াত-ই-ইসলামী এবং অন্যান্য দলের কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা এই সন্দেহকে উসকে দিয়েছে।
