ইসলামাবাদে বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান!

bangladesh-air-force-chief-islamabad

ঢাকা: বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে নতুন অধ্যায় (Bangladesh Air Force)। ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সদর দফতরে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

এই সাক্ষাৎ দু’দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)-এর বিবৃতি অনুসারে, আলোচনায় জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা, প্রশিক্ষণ, ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।

   

আইপিএল থেকে ছাঁটাই মুস্তাফিজুর, ৯.২০ কোটি টাকার ভবিষ্যৎ কী?

সোমবার এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশী প্রতিনিধিদলকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পাকিস্তানী বিমানবাহিনী প্রধান তাঁর বাংলাদেশী সমকক্ষকে পিএএফ-এর সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে বেসিক থেকে অ্যাডভান্সড ফ্লাইং ট্রেনিং এবং বিশেষায়িত কোর্সের মাধ্যমে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশেষ করে সুপার মুশশাক ট্রেনার বিমানের দ্রুত সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। বাংলাদেশী এয়ার চিফ পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধ অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং তাঁদের অপারেশনাল এক্সপার্টাইজ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের পুরনো বিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং এয়ার ডিফেন্স রাডার সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর সাহায্য চান।

প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন যেমন ন্যাশনাল আইএসআর অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড এয়ার অপারেশনস সেন্টার, পিএএফ সাইবার কমান্ড এবং ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্ক। সেখানে তারা আইএসআর, সাইবার, স্পেস, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং আনম্যান্ড সিস্টেমের ক্ষমতা দেখেন।

এই সফর দু’দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তুলে ধরে এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে।এই সফরের পিছনে বড় প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দু’দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক সফর বেড়েছে।

২০২৫ সালে সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর নেতারা পরস্পরের দেশে গিয়েছেন। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের সফর, আর্মি-টু-আর্মি স্টাফ টকস এবং নেভাল এক্সারসাইজে অংশগ্রহণ সবই এই উষ্ণতার সাক্ষ্য। এমনকি মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে বলে খবর।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন