ডিসেম্বরের প্রথম দিনকে ঘিরে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে বিজয়ের মাস—স্বাধীনতার সংগ্রামের চূড়ান্ত অধ্যায়ের স্মৃতিবাহী একটি ঐতিহাসিক সময়। এই দিনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ (Awami League) এক দীর্ঘ বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের সরকারি এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে—বাংলাদেশ আজ আবারও এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
আওয়ামী লীগ বলেছে, বিজয়ের এই মাস শুধুই কোনো উৎসব নয়; বরং বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জনের এক গৌরবগাঁথা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি নিজেদের রক্ত ঝরিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়—“স্বাধীনতা কোনো দয়া বা দান ছিল না, বরং দখলদার বাহিনীকে উৎখাত করেই বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল।”
🇧🇩 মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের স্মরণ
বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের নির্মমতা ও সংগ্রামের কথাও স্মরণ করা হয়। নয় মাসের যুদ্ধে তিন লাখ শহীদ ও দুই লাখ পঁচাশ হাজার মা-বোনের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলা হয়—এই স্বাধীনতা মানব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আওয়ামী লীগ বলেছে, “মুক্তিযোদ্ধারা এই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আজও আমাদের পথ দেখায়।”
⚠️ “দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র” — আওয়ামী লীগের অভিযোগ
বিবৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের কঠোর মন্তব্য। দলটি দাবি করেছে, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও বিদেশি মহলের সমর্থনে বারবার দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ—
-
স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরে-বাইরে বহু শক্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকৃত করার চেষ্টা চালিয়েছে
-
এসব শক্তি পাকিস্তানি মতাদর্শ পুনরায় ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করেছে
-
বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আঘাত করতে সন্ত্রাস, হত্যা ও নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে
🟥 ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনকে “ষড়যন্ত্রমূলক অভ্যুত্থান” দাবি
আওয়ামী লীগ আবারও দাবি করেছে—২০২4 সালের জুলাই–আগস্টে Sheikh Hasina–নেতৃত্বাধীন সরকারকে “ষড়যন্ত্র করে” ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।
দলের ভাষায়—
“আইনের বাইরে থাকা কিছু শক্তি বিদেশি ইশারায় সাংবিধানিক সরকারকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়। পুরো জাতি সেই ষড়যন্ত্র প্রত্যক্ষ করেছে।”
⚠️ বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ দখলদার ও বিদেশি স্বার্থের এজেন্ট’ আখ্যা
বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ আজকের শাসনব্যবস্থাকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। তারা অভিযোগ করে—
-
দেশের মানুষ রাজনৈতিক অধিকার হারিয়েছে
-
সংবিধান কার্যত অকার্যকর
-
শিল্প-কারখানা একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
-
শ্রমিকরা বেকার হচ্ছে
-
কৃষক সার পাচ্ছে না
-
দরিদ্রদের ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে
-
জীবন–সম্পদের নিরাপত্তা নেই
বিবৃতিতে এও বলা হয়—“রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ দখলদাররা বিদেশি স্বার্থ রক্ষা করছে।” দলের দাবি, বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্য—বাংলাদেশকে পরাধীনতার দিকে ঠেলে দেওয়া।
🔥 “বাংলাদেশ কখনও মাথা নত করেনি”—অতীত সংগ্রামের স্মরণ
দীর্ঘ বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন—
-
ভাষা আন্দোলন,
-
শিক্ষা আন্দোলন,
-
ছয় দফা,
-
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান,
-
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—
এই সবকিছুকে জাতীয় দৃঢ়তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।
তারা বলেছে—বাঙালি জাতি কখনো পরাজিত হয়নি এবং কখনো মাথা নত করেনি।
🟩 “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে আবার মুক্ত করা হবে”
আওয়ামী লীগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—তাদের লক্ষ্য “অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা।”
বিবৃতিতে বলা হয়েছে—
“বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আবারও লড়াই করব এবং দেশকে মুক্ত করব।”
দলের আহ্বান—
-
সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক
-
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি
-
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী
—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
🕊️ বিজয় মাসে ঐক্যের ডাক
বিবৃতির শেষাংশে আওয়ামী লীগ বলেছে—বিজয়ের মাসে শহীদদের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর দর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশের পুনর্গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তাদের বক্তব্য— “এসো, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলি অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ, সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।”
