
ঢাকা: বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার তালিকায় যোগ হলো আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা। নওগাঁ জেলায় উন্মত্ত জনতার তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন মিঠুন সরকার নামে এক ব্যক্তি, কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বুধবার নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মহম্মদ তরিকুল ইসলাম এএনআই-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চুরির অভিযোগে একদল মানুষ মিঠুনকে তাড়া করলে তিনি ভয়ে জলে ঝাঁপ দেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ধারাবাহিক হামলার কবলে হিন্দুরা
গত ডিসেম্বর মাসে ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে অশান্তির আগুন জ্বলেছিল, তার পর থেকেই হিন্দুরা চরম নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। গত ১৮ই ডিসেম্বর প্রথম হামলার খবর পাওয়া যায়, যখন দীপু চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে ‘ধর্ম অবমাননার’ মিথ্যে অপবাদে পিটিয়ে খুনের পর গাছে বেঁধে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই একের পর এক হিন্দু ব্যবসায়ীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার খবর সামনে আসছে।
রক্তাক্ত গত ৪৮ ঘণ্টা: একের পর এক খুন another hindu man dies bangladesh
গত সোমবার রাতে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় মণি চক্রবর্তী (৪০) নামে এক মুদি দোকানিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে এই অতর্কিত হামলায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। মণি চক্রবর্তী ছিলেন গত কয়েক সপ্তাহে খুন হওয়া তৃতীয় হিন্দু ব্যবসায়ী। ঠিক একই দিনে যশোরের কেশবপুরে রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) নামে এক সংবাদপত্র সম্পাদক ও ব্যবসায়ীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা।
আক্রান্তের লম্বা তালিকা
জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে খোকন চন্দ্র দাস (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করার পর আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে। তার আগে ২৪শে ডিসেম্বর রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় অমৃত মন্ডল নামে আরও একজনকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকাল ও শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পরবর্তী সময়কালে সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বারংবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যত উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
Bangladesh: Rising attacks on Hindus in Bangladesh: Mithun Sarkar dies in Naogaon after being chased by a mob. This follows the murders of Moni Chakraborty and Rana Pratap Bairagi. Read the detailed report on the increasing violence against minorities.










