
বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী মন্তব্যে উত্তেজনার পারদ চড়াল কট্টরপন্থী ছাত্রনেতা আলি আহসান জোনায়েদ। ইনকিলাব মঞ্চের শীর্ষ নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলা বিক্ষোভের মধ্যেই তিনি ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকিমূলক মন্তব্য করেন। ‘গুজরাতের কসাই বাংলাদেশের কসাইকে আশ্রয় দিয়েছে’—এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একসূত্রে আক্রমণ করেন।
কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ
শুধু ভাষাগত আক্রমণেই থামেননি জোনায়েদ। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনে ‘৩০ কোটি বাংলাদেশিকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় যাওয়া সম্ভব’। এই মন্তব্য ঘিরে ঢাকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকার শাহবাগ-সহ একাধিক এলাকায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তাঁর সমর্থকরা। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরনো পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে টোটোয় যাতায়াতের সময় খুব কাছ থেকে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। প্রথমে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারের উদ্যোগে তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত?
ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের এক কর্মী এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। যদিও এই অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে প্রশ্ন ও পাল্টা সন্দেহ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।
এই উত্তপ্ত আবহেই আলি আহসান জোনায়েদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, হাদির মাথায় গুলি চালানোর নেপথ্যে ‘ভারতীয় মদতের ইঙ্গিত’। জোনায়েদের দাবি, “ভারত আমাদের সংযমকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছে। আমাদের সহযোদ্ধাদের উপর গুলি চালানো হলে তার জবাব দেওয়া হবেই।”
পরিস্থিতি অস্থির হওয়ার আশঙ্কা
আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “যতদিন শহিদ শরিফ ওসমান হাদির ভাই ও সহযোদ্ধারা বাংলাদেশে বেঁচে থাকবে, ততদিন ভারত শান্তিতে থাকতে পারবে না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশে নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রকাশ্য উসকানিমূলক ভাষা শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই নয়, ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ককেও নতুন করে চাপের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভোটের আগে রাজপথে উত্তেজনা ও সীমান্ত-ছোঁয়া হুমকির রাজনীতি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।



