
ইসলামাবাদ: পাকিস্তান অধিকৃত বালোচিস্তানে বালোচ বিদ্রোহীদের হামলায় (Baloch insurgent attack Pakistan)ফের রক্তগঙ্গা বয়ে গেল। গতকাল দু’টি পৃথক হামলায় অন্তত ১৩ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। প্রথম হামলাটি ঘটে পাঞ্জগুর জেলায়, যেখানে বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)-র যোদ্ধারা একটি সামরিক কনভয়ের ওপর আচমকা আক্রমণ চালায়। দ্বিতীয় হামলাটি খুজদারের জেহরি এলাকায়, যেখানে নিরাপত্তা চৌকিতে গ্রেনেড এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’টি হামলাতেই বালোচ যোদ্ধারা দ্রুত অপারেশন করে পিছু হটে, পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা গুলিতে কোনও হতাহতের খবর নেই তাদের পক্ষে।এই দু’টি হামলা নিয়ে চলতি সপ্তাহে বালোচ বিদ্রোহীদের হামলার সংখ্যা দাঁড়াল ১৬টি। এই সপ্তাহেই মোট ৪৪ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন।
জ্বলন্ত বাংলাদেশে বদলে গেল BPL শুরুর সময়সূচি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান?
বিএলএ এবং অন্যান্য বালোচ সশস্ত্র গ্রুপগুলো এই হামলাগুলোর দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলছে, এগুলো পাকিস্তানি বাহিনীর দমনমূলক অভিযানের প্রতিশোধ। বালোচিস্তানে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্পের নিরাপত্তা দেওয়ার নামে স্থানীয় বালোচদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে এই অভিযোগ তুলে তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
পাঞ্জগুর এবং খুজদার দু’টি এলাকাই বালোচ বিদ্রোহের অন্যতম কেন্দ্র। গত কয়েক মাসে এখানে হামলার তীব্রতা বেড়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বড় বড় অভিযান চালিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর সেনাবাহিনী গ্রামে গ্রামে তল্লাশি চালাচ্ছে, বেসামরিক লোকজনকে আটক করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
এক বালোচ যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “আমরা শান্তি চাই, কিন্তু যখন আমাদের ভাই-বোনদের তুলে নিয়ে যায়, গুম করে, তখন লড়াই ছাড়া উপায় থাকে না।”পাকিস্তান সরকার এই হামলাগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ’ বলে চিহ্নিত করে। তারা দাবি করে, ভারত এবং অন্যান্য বিদেশি শক্তি বালোচ বিদ্রোহীদের অর্থ এবং অস্ত্র সরবরাহ করছে। কিন্তু বালোচ নেতারা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
তাঁরা বলেন, এটা সম্পূর্ণ স্বাধীনতার লড়াই সম্পদ লুট, সাংস্কৃতিক দমন এবং রাজনৈতিক অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে। সিপিইসি প্রকল্পে বালোচিস্তানের গ্যাস, সোনা, তামার মতো সম্পদ ব্যবহার হচ্ছে, কিন্তু স্থানীয় মানুষের উন্নয়ন হচ্ছে না এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের।আন্তর্জাতিক মহলে এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার বলছে, পাকিস্তানি বাহিনীর গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং বালোচ বিদ্রোহীদের হামলা দু’পক্ষের সহিংসতায় সাধারণ বালোচরাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। হাসপাতালে আহত সেনাদের চিকিৎসা চলছে, কিন্তু নিহতদের পরিবারের শোক এখন পাকিস্তানি সেনা শিবিরে। অন্যদিকে বালোচ গ্রামগুলোতে ভয়ের ছায়া।










