আফগান চাপে ফের ট্রাম্প সফরে মুনির

asim-munir-us-visit-donald-trump-pakistan-politics

পাকিস্তানের সামরিক শাসক ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির আবারও আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন (Asim Munir US visit Donald Trump)। ওয়াশিংটনে গিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন এটি দু’জনের মধ্যে তৃতীয় সাক্ষাৎ হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এই সফরের সময়কাল বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সম্প্রতি আসিম মুনির নানা বিতর্কিত ও দমনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা আরও পাঁচ বছর বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ। সমালোচকদের মতে, পাকিস্তানে কার্যত গণতন্ত্রকে কোণঠাসা করে সামরিক শাসন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

   

ঘরে বসেই UAN পাসবুক ডাউনলোড করুন, মুহূর্তে জানুন PF ব্যালেন্স

বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের উপর চলছে ব্যাপক দমনপীড়ন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখনও কারাবন্দি, এবং তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফের বহু নেতা-কর্মী নির্যাতন ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

একই সঙ্গে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে সেনা অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই সামরিক অভিযানে নিরীহ নাগরিকদের মৃত্যু এবং বাস্তুচ্যুতি দিন দিন বাড়ছে। অথচ ইসলামাবাদ এই অভিযোগগুলি কার্যত অস্বীকার করেই চলেছে।

এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত বাড়ানোর একাধিক চেষ্টা করেন আসিম মুনির। সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি, কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কাবুলের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বরং উল্টে দু’দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, যার ফলে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে এমনিতেই পাকিস্তান চরম সংকটে। বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার তলানিতে, মুদ্রাস্ফীতি আকাশছোঁয়া এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত। সমালোচকদের প্রশ্ন—নিজের ভুল নীতির ফলেই যখন পাকিস্তান এই অবস্থায়, তখন আসিম মুনিরের ওয়াশিংটন সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুনিরের ঘনিষ্ঠতার দিকটি তুলে ধরছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক এবং মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসককে ঘিরে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে—তিনি নাকি দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন স্বার্থ রক্ষার একজন কার্যকর ‘এক্সিকিউটর’। এই সফরকে সেই ধারণারই আরও একটি প্রমাণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ওয়াশিংটনে গিয়ে আসিম মুনির মূলত নতুন নির্দেশনা, কূটনৈতিক সমর্থন এবং রাজনৈতিক আশ্বাস পেতে চাইছেন। অতীতে মার্কিন স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ‘পুরস্কার’ হিসেবেই এই সফর—এমন ধারণাও জোরালো হচ্ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে আফগানিস্তান ইস্যু, চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে অনুমান।

তবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এই সফর নিয়ে ক্ষোভও কম নয়। সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন—দেশ যখন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত, তখন সেনাপ্রধানের বিদেশ সফর আদৌ জাতীয় স্বার্থে হচ্ছে কি না, নাকি তা কেবলমাত্র ক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা? সব মিলিয়ে, আসিম মুনিরের এই মার্কিন সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক শক্তির সমীকরণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত—এ কথা বলাই যায়।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন