ইসলামাবাদ: দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ (Asif Ali Zardari)ছড়াল পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির এক বিস্ফোরক মন্তব্যে। এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জারদারি কার্যত স্বীকার করে নেন যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বর্তমানে বাঙ্কারে লুকিয়ে রয়েছে এবং তাকেও সেই বাঙ্কারেই আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জারদারির বক্তব্যের আরেকটি দিক আরও বেশি বিতর্ক উসকে দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি মন্তব্যের জবাবে তিনি হুমকির সুরে বলেন, “তোমরা কী গুলি মারবে? গুলি তো আমরাই মারব।” উল্লেখ্য, এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, “রুটি খাও, না হলে গুলি তো আছেই।” সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই জারদারির এই পাল্টা হুঁশিয়ারি।
বিজয় হাজারে ঝড়ের পর ভারতীয় দলের দায়িত্বে এই তারকা! উচ্ছ্বসিত ভক্তরা
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির মুখে সেনাবাহিনীর বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকার কথা শোনা যাওয়ায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, যদি রাষ্ট্রপতি নিজেই এমন কথা বলেন, তাহলে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য পাকিস্তানের সামরিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
ভারতীয় কূটনৈতিক মহলেও এই বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত ইস্যুতে ভারত-পাক সম্পর্ক এমনিতেই অত্যন্ত সংবেদনশীল।
সামাজিক মাধ্যমে জারদারির বক্তব্য ঘিরে তীব্র আলোচনা চলছে। অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন, একজন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি আসলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই “অপারেশন সিন্দুর ২.০” নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে, যেখানে ২০২৬ সালে নতুন করে কোনও সামরিক অভিযানের আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে। যদিও এই ধরনের দাবি এখনও সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির মুখে সেনার বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার কথা শোনা যাওয়া একদিকে যেমন বিস্ময়কর, তেমনই উদ্বেগজনক। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হয়তো শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা, নয়তো গভীর নিরাপত্তা আশঙ্কার প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, আসিফ আলি জারদারির এই মন্তব্য ভারত-পাক সম্পর্কের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কূটনৈতিক ভাষার বদলে প্রকাশ্য হুমকি ও স্বীকারোক্তি দুই দেশকেই আরও সতর্ক অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, এই কথার লড়াই বাস্তবে কী প্রভাব ফেলে এবং দুই দেশের নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে কোন পথে হাঁটে।
