Israel Palestine War: শান্তির বিক্ষোভ! ‘হামাস জঙ্গি সংগঠন, সব ফিলিস্তিনি হামাস নয়’

দুর্ভেদ্য ইজরায়েলি সুরক্ষা বলয় ভাঙার নজির হামাস করেছে। এমন সুরক্ষা তো আমেরিকাতেও নেই। এই কান্ড ঘটিয়ে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে গোলাগুলির মুখে ঠেলে দিয়েছে হামাস।

সুজানা ইব্রাহিম মোহনা, দোহা: আমার অফিসের জানালা থেকে পারস্য উপসাগর স্পষ্ট দেখা যায়। দেখছি একটা স্পিড বোটে চেপে কয়েকজন কাতারি সাগরের ঢেউ মাখছে। কাতার যেহেতু ইসলামিক দেশ তাই শুক্রবার ছুটি। বৃহস্পতিবার থেকেই উইকএন্ড মজা শুরু। এসব যেমন আছে তেমনই আছে যুদ্ধ! ভূমধ্যসাগরের তীরে ইজরায়েল ও প্যলেস্টাইন সংঘর্ষে (Israel Palestine war) রক্তাক্ত পরিস্থিতি।

ফিলিস্তিনি আবেগ সমগ্র আরব দুনিয়ার দেশগুলিতে উন্মাদনা তৈরি করেছে। স্বাভাবিক কারণে কাতারেও একই অবস্থা। কিন্তু যুক্তি বিচার যারা করছেন তারা বলছেন ইজরায়েলে যে হামলা করেছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস তা আরব জাতিসত্তার উন্মাদনা চাগিয়ে দিলেও এর সর্বশেষ পরিণতি ভয়াবহ। ইজরায়েলের প্রত্যাঘাতের সামনে কতদিন টিকতে পারবে গুটিকয় হামাস সদস্য? উল্টোদিকেও চরম বাস্তব। সেখানে আছে দীর্ঘ দশকের পর দশক ধরে বন্দি-অবরুদ্ধ হওয়ার ফিলিস্তিনি ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের কারণেই গত শনিবার ইজরায়েলকে রকেট হামলায় রত্তাক্ত করেছিল ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। এবার তাদের নিশ্চিহ্ন করছে ইজরায়েল।

   

ফিলিস্তিনি আবেগে মিশে আছে আরব জাতিসত্তা। কারণ, আরব কেটেই তৈরি করা হয়েছিল ইজরায়েল। এই কারণে বিশ্বের যে কোনও আরব জাতির দেশ ফিলিস্তিনি পতাকাকে নিজেদের বলেই মনে করে। রাষ্ট্রসংঘ, রেডক্রশ, ইউনেস্কো সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতীক দেওয়া পতাকা যেমন সব দেশেই যে কোনও সময় ব্যবহার করা যায়, তেমনই আরব দেশগুলিতে যে কোনও সময় যে কেউ প্যালেস্টাইনের পতাকা ব্যবহার করেন। সেই পতাকা নিয়েই অভিনব মিছিল হচ্ছে।

Israel Palestine War: শান্তির বিক্ষোভ! 'হামাস জঙ্গি সংগঠন, সব ফিলিস্তিনি হামাস নয়'

আরব দুনিয়ার মধ্যে ও বাইরে আরও একটি ঘটনা ঘটে চলেছে। সেটি হলো জাতি দ্বন্দ্ব ভুলে এক থাকার বার্তা। এমন ছবি কখনও কখনও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দেখা যায়। ঠিক তেমনই কিছু ফিলিস্তিনি ও ইজরায়েলি পরস্পরের প্রতি সৌহার্দ্য দেখিয়ে নিজেদের পতাকা একসাথে রেখে বার্তা দিচ্ছেন শান্তির। তারা স্পষ্ট বলছেন, ফিলিস্তিনি হামাস জঙ্গি সংগঠন। কিন্তু সব ফিলিস্তিনি জঙ্গি নয়। বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে সেই ছবি। এর পাশাপাশি আরব দুনিয়ার সামাজিক মাধ্যমেই উঠে আসছে সেই বিতর্কিত ও বহু আলোচিত সীমান্ত ভালোবাসার মুহূর্তটি। কংক্রিকেটের সীমান্ত দেওয়ালের উপর এক ফিলিস্তিনি নারী ও ইজরায়েলি যুবকের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত।

ইজরায়েলের প্রত্যাঘাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজা নিশ্চিহ্ন হতে চলল। আর গাজা থেকে হামাসের হামলায় ইজরায়েলে প্রবল আতঙ্ক। নিশ্চিহ্ন হবে জেনেও হামাস এটা প্রমাণ করে দিয়েছে কোনও সুরক্ষাই শেষ কথা নয়। দুর্ভেদ্য ইজরায়েলি সুরক্ষা বলয় ভাঙার যে নজির তারা করেছে তা নজিরবিহীন। কারণ, এমন সুরক্ষা তো আমেরিকাতেও নেই। এই বেনজির কান্ড ঘটিয়ে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে গোলাগুলির মুখে ঠেলে দিয়েছে হামাস।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন