
ইসলামাবাদ: আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের ২০১ খালিদ বিন (Afghanistan Pakistan border clash)ওয়ালিদ কর্পসের মুখপাত্র ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদী এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে তালেবান বাহিনীর অভিযানে পাকিস্তানের ১৪টি সামরিক চৌকি ধ্বংস করা হয়েছে এবং অন্তত ৪০ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। এই দাবি পাক-আফগান সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে, যা ইতিমধ্যে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) জঙ্গি হামলা এবং সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে চাপের মুখে রয়েছে।
ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদী বলেন, “পূর্বাঞ্চলে আমাদের বাহিনী সফল অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৪টি চৌকি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। এতে অন্তত ৪০ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।” তিনি এই অভিযানকে পাকিস্তানের ‘আগ্রাসী নীতি’র জবাব হিসেবে বর্ণনা করেন। তালিবানের দাবি অনুসারে, পাকিস্তান বারবার আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে এমন প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ISL: আলোচনায় ফেডারেশনের বিশেষ কমিটি, নজরে গোয়া ও কলকাতা
খালিদ বিন ওয়ালিদ কর্পস আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো যেমন নাঙ্গারহার, কুনার, নুরিস্তান ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে, যা দুরান্ড লাইনের কাছে অবস্থিত।এই ঘটনার পটভূমি গত কয়েক মাসের সীমান্ত উত্তেজনা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে তালেবান বাহিনী সীমান্তে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছিল। তখন তালিবান দাবি করেছিল ৫৮ পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ২৫টি চৌকি দখল করা হয়েছে।
পাকিস্তান পাল্টা দাবি করেছিল ২০০-এর বেশি তালেবান ও টিটিপি জঙ্গি নিহত। সেই সংঘর্ষের পর কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু ছোটখাটো গুলি বিনিময় চলছিল। সম্প্রতি ডিসেম্বরে আবার সংঘর্ষ বেড়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে যে, আফগানিস্তান থেকে টিটিপি জঙ্গিরা হামলা চালাচ্ছে, আর তালিবান তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। তালিবান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, পাকিস্তান নিজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করুক।
পাকিস্তানের তরফে এখনও এই নির্দিষ্ট দাবির প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পাকিস্তানি সূত্র বলেছে যে, তালেবানের ‘অযৌক্তিক গুলি’র জবাবে তারা শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়েছে এবং বেশ কয়েকটি আফগান চৌকি ধ্বংস করেছে। পাকিস্তানি মিডিয়ায় ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে যাতে আফগান পোস্টে হামলার দৃশ্য দেখা যায়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উভয় পক্ষের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন, কারণ সীমান্ত এলাকা দুর্গম এবং তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত।










