ভারত-আফগান সম্পর্ক নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া জবাব তালিবান মন্ত্রীর

afghanistan-india-relations-taliban-response-to-pakistan

নয়াদিল্লি, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আকাশে আজ যেন একটা নতুন ঝড় উঠল (Afghanistan India relations)। আফগানিস্তানের তালেবান-শাসিত সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, “কাবুলের ভারতের সাথে সম্পর্ক গড়ার পূর্ণ অধিকার আছে। পাকিস্তানের তো ভারতে দূতাবাস আছে, আমরা কেন ভারতের সাথে সম্পর্ক রাখব না?” এই কথা আফগান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেছেন, যা পাকিস্তানের জন্য যেন একটা কঠিন চড়।

Advertisements

গত অক্টোবরে ভারত-আফগানিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীরের উল্লেখ এবং ভারতের কাবুলে দূতাবাস পুনরায় খোলার ঘোষণার পর থেকেই ইসলামাবাদের মুখ গোমড়া। আজকের এই ঘোষণা শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং আঞ্চলিক ভারসাম্যের একটা বড় পরিবর্তনের সংকেত যা পাকিস্তানকে একা করে দিচ্ছে এবং ভারতের প্রভাব বাড়াচ্ছে। কাবুলের এই স্পষ্ট বার্তা যেন বলছে, সীমান্ত ঝড় এবং শরণার্থী বিতাড়নের মধ্যেও ভারতের সাথে বন্ধুত্ব অটুট।

   

২০২১ সালে তালেবান কাবুল দখল করার পর ভারতের দূতাবাস বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ২০২২ সালে ভারত একটা ‘টেকনিক্যাল মিশন’ চালু করে, যা মানবিক সাহায্য, বাণিজ্য এবং চিকিৎসা সেবা দেয়। গত অক্টোবরে, যখন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি দিল্লিতে আসেন তালেবানের কোনো কর্মকর্তার এত উচ্চপদস্থ সফর ২০২১-এর পর প্রথম—তখন সবকিছু বদলে যায়। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে বৈঠকে ভারত ঘোষণা করে, কাবুলে টেকনিক্যাল মিশনকে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে উন্নীত করবে।

এতে ভারতের ৩ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন সাহায্য—যেমন সড়ক, হাসপাতাল, স্কুল—আবার গতি পাবে। মুত্তাকি বলেছেন, “ভারতের সাথে আমাদের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আছে। আমরা খনিজ সম্পদে ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” এই যৌথ বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীরের উল্লেখ এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের কথা পাকিস্তানকে রাগিয়ে তোলে। ইসলামাবাদ বলে, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ।

গত অক্টোবরেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আফগান দূতকে ডেকে ‘স্ট্রং রিজার্ভেশন’ জানায়। তারা বলেছে, “জম্মু-কাশ্মীরের উল্লেখ অগ্রহণযোগ্য। আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব নিতে হবে, পাকিস্তানকে দোষ দেওয়া যাবে না।” এর পটভূমিতে দুরান্দ লাইনের সীমান্তে সংঘর্ষ বাড়ে—পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ১০ জন নিহত, যার মধ্যে ৯ জন শিশু।

আফগানিস্তান অভিযোগ করে, পাকিস্তান শরণার্থীদের বিতাড়ন করছে এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। মুত্তাকির আজকের বক্তব্যে বলা হয়েছে, “পাকিস্তানের ভারতে দূতাবাস আছে, তারা বাণিজ্য করে। আমরা কেন ভারতের সাথে সম্পর্ক রাখব না? কাবুলের এটা পূর্ণ অধিকার।” এটা শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং পাকিস্তানের ‘প্রক্সি’ অভিযোগকে উলটে দেওয়া। আফগানিস্তান বলছে, তারা কোনো দেশের বিরুদ্ধে আফগান ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না, কিন্তু পাকিস্তানের হামলা ‘বড় ভুল’।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements