“দিদির আঁচলে আমরা নিরাপদ”, মমতার মুখ আঁকা শাড়িতে মহিলা ব্রিগেড

একুশে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে শহরজুড়ে যখন উৎসবের আবহ, তখন বিশেষ নজর কেড়ে নিলেন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল মহিলা ব্রিগেড। তাঁদের গায়ে ছিল এমন এক শাড়ি, যা বাংলার রাজনীতির ক্ষেত্রে এক অভিনব দৃষ্টান্ত তৈরি করল। ওই শাড়িতে স্পষ্টভাবে আঁকা ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মুখ। শাড়ির আঁচলে ছিল দিদির ছবি, দলীয় প্রতীক এবং ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর প্রতীকী বার্তা।

Advertisements

এই শাড়ি পরে কলকাতার পথে পা মেলান পাণ্ডবেশ্বরের প্রায় শতাধিক মহিলা। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ব্লক স্তরের দলীয় কর্মী, কেউ কেউ আবার অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তাঁরা জানান, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুধু রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে দেখি না, তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। আমাদের দিদি। আমরা তাঁকে হৃদয়ে ধারণ করি। এবার তাঁকে অঙ্গে ধারণ করলাম।”

   

এদিন মহিলা ব্রিগেড ‘মমতার সৈনিক’ বলে নিজেকে পরিচয় দেন। তাঁদের হাতে ছিল পোস্টার, দলীয় পতাকা, আর মুখে স্লোগান— “মমতার সৈনিক চলেছে রণে, উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে বঙ্গে।” এই দৃশ্য দেখে পথচলতি বহু মানুষ থমকে দাঁড়ান, কেউ কেউ ছবি তোলেন, কেউ আবার ভিডিও করে শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে যে আবেগ রাজ্যের সর্বস্তরে বিরাজ করছে, এই ‘শাড়ি পর্ব’ যেন তারই একটি জীবন্ত প্রমাণ। মহিলা ব্রিগেডের কথায়, “বিজেপি শুধু অপপ্রচার চালায়। ওদের কাছে কোনও উন্নয়নের রূপরেখা নেই। অথচ দিদি আমাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দিয়েছেন, লক্ষীর ভাণ্ডার চালু করেছেন। এ রাজ্যের মা ও বোনেরা সম্পূর্ণ নিরাপদ, কারণ দিদির আঁচল আমাদের ঢেকে রেখেছে।”

রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের এক জেলা নেতা বলেন, “এই দৃশ্য আমাদের আবেগকে আরও জাগ্রত করেছে। দিদির জন্য রাজ্যের মানুষ কী করতে পারে, তা এই মহিলারা দেখিয়ে দিলেন।” অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এক নেতার প্রতিক্রিয়া, “এটি তৃণমূলের নাটক। মানুষের প্রকৃত সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা মাত্র।”

তবে তাতে বিচলিত নন মহিলা ব্রিগেড। তাঁদের সাফ জবাব, “নাটক নয়, আমরা জানি কীভাবে দিদি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজ এই শহিদ দিবসে আমরা তাঁকে সম্মান জানাতে এই পোশাক পরে এসেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমাদের ভবিষ্যৎ।”

এদিন দুপুরে এই মহিলা মিছিল একপ্রকার চমক তৈরি করে শহরের বুকে। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করে তাঁরা মূল সভাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে এগিয়ে গিয়ে তাঁরা দেখালেন— তৃণমূল কংগ্রেস শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এ এক আবেগ, যা অনেকের জীবন জুড়ে রয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements