প্রোটোকল ভেঙে তাঁর বাড়িতে নথিপত্র উদ্ধারে ছুটলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী!কে এই প্রতীক জৈন?

ED Details How I-PAC Is Connected to the Coal Scam
ED Details How I-PAC Is Connected to the Coal Scam

কলকাতা: সাতসকালে কলকাতার রাজপথে কার্যত হলিউডি থ্রিলার! দিল্লির পুরনো একটি কয়লা পাচার মামলার সূত্রে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের আবাসে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কিন্তু সেই তল্লাশি অভিযান ছাপিয়ে খবরের শিরোনামে উঠে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থার ঘেরাটোপের মধ্যেই সশরীরে অকুস্থলে পৌঁছে গিয়ে ইডি আধিকারিকদের সামনে দিয়েই সবুজ ফাইল, ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক ও ফোন নিয়ে বেরিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে যা কার্যত বেনজির এবং নজিরবিহীন এক সাংবিধানিক সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি করল।

কে এই প্রতীক জৈন? কেন তাঁকে ঘিরে এত তৎপরতা?

আইআইটি বম্বের প্রাক্তনী প্রতীক জৈন কেবল একজন ডেটা অ্যানালিস্ট বা ভোটকুশলী নন, বর্তমান শাসকদলের অন্দরমহলে তাঁর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রশান্ত কিশোর পরবর্তী সময়ে আইপ্যাক-এর রাশ রয়েছে প্রতীকের হাতেই। তিনি একইসঙ্গে তৃণমূলের আইটি সেলেরও প্রধান। দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক প্রচারের নীল নকশা তৈরি, সবটাই পর্দার আড়ালে থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন প্রতীক। মূলত তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবেই তিনি পরিচিত। কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির আতশকাচের নিচে থাকায়, তাঁর প্রধান পরামর্শদাতার বাড়িতে এই হানা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

   

মমতার ‘অপারেশন উদ্ধার’ ও তীব্র সংঘাত Who is Pratik Jain

এদিন সেক্টর ফাইভের আইপ্যাক অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটের ৭ নম্বর আবাসনে ইডি যখন নথিপত্র খতিয়ে দেখছিল, ঠিক তখনই প্রোটোকল ভেঙে সেখানে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ইডি আসলে তদন্তের নামে দলের নির্বাচনী কৌশল এবং গোপন নথিপত্র হাতাতে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তল্লাশির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী নিজের জিম্মায় বেশ কিছু ডিজিটাল সরঞ্জাম এবং ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান।

রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। একদিকে তৃণমূল যখন একে ‘রাজনৈতিক ডাকাতি’ বলে বর্ণনা করছে, অন্যদিকে বিজেপি একে ‘তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ’ ও ‘অসাংবিধানিক’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রতীক জৈনের ডিজিটাল ডিভাইসে কি এমন কোনো তথ্য ছিল যা কয়লা পাচার কাণ্ডের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত? ইডি এই হস্তক্ষেপের পর আইনি পথে কোনো পালটা পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন