শনিবার থেকে রাজ্যে শুরু হয়ে গেল ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া (SIR)-এর দ্বিতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পর্যায়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ নাগরিককে সরাসরি ডেকে পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। যাঁদের নাম কমিশনের সাম্প্রতিক ডিজিটাল ম্যাপিংয়ে ধরা পড়েনি, তাঁদেরই এখন ব্যক্তিগত যাচাই পর্বে হাজির হতে বলা হচ্ছে, যাকে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হিয়ারিং’ বা শুনানি হিসেবে উল্লেখ করছে। এই শুনানির মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম আগামী ভোটার তালিকায় থাকবে কি না।
কাদের দিয়ে শুরু হচ্ছে শুনানি?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রথম পর্যায়ে ফোকাস করা হচ্ছে সেই সব নাগরিকের উপর, যাঁদের নাম বা পারিবারিক কোনও রেফারেন্স ২০০২ সালে হওয়া শেষ SIR-এ নথিভুক্ত ছিল না। কমিশনের মতে, এই শ্রেণির ভোটারদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
এই কারণে তাঁদের আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং শুনানির সময় ভারতের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র জমা দিতে বলা হচ্ছে। প্রয়োজন মনে করলে আধিকারিকরা মৌখিক প্রশ্নও করতে পারেন।
কত জনের শুনানি হবে?
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই ধাপে মোট ৩১ লক্ষের বেশি নাগরিককে নোটিস পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁদের কাছে শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই এই যাচাই প্রক্রিয়া চলবে।
শুনানির সময় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ভোটার ও কমিশনের মনোনীত আধিকারিকরাই উপস্থিত থাকতে পারবেন। কোনও আত্মীয়, আইনজীবী বা বহিরাগত ব্যক্তির প্রবেশ অনুমোদিত নয়। একটি শুনানি টেবিলে দিনে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত যাচাই করা হতে পারে। পাশাপাশি, প্রত্যেক ব্যক্তির লাইভ ছবি তোলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কী কী নথি দেখাতে হতে পারে?
নির্বাচন কমিশন আগেই নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য একাধিক নথিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। আধার কার্ড ছাড়াও, নিচের তালিকা থেকে অন্তত একটি প্রামাণ্য নথি বাধ্যতামূলক। তবে প্রয়োজনে একাধিক নথি পেশ করতে বলা হতে পারে।
গ্রহণযোগ্য নথির মধ্যে রয়েছে-
১৯৮৭ সালের আগের ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস বা LIC সংক্রান্ত নথি
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের চাকরির পরিচয়পত্র
জন্ম নথিভুক্তির সরকারি শংসাপত্র
ভারতীয় পাসপোর্ট
মাধ্যমিক বা তার ঊর্ধ্বতন পরীক্ষার সার্টিফিকেট
বনাধিকার সংক্রান্ত সার্টিফিকেট
SC / ST / OBC সংরক্ষণ সংক্রান্ত নথি
স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া আবাসন সংক্রান্ত শংসাপত্র
NRC-ভিত্তিক নথি
পারিবারিক রেজিস্টার
জমি বা আবাসনের মালিকানা দলিল
আধার কার্ড
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপ?
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকাকে ‘ত্রুটিমুক্ত ও আইনি ভাবে সুরক্ষিত’ করাই এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য। সেই কারণে এই শুনানিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং চূড়ান্ত যাচাইয়ের ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কমিশনের বার্তা স্পষ্ট, নোটিস পাওয়া মানেই নাম বাতিল নয়, তবে নির্ধারিত দিনে যথাযথ নথি নিয়ে হাজির না হলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
ফলে এখনই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করে প্রস্তুত থাকা, এটাই ভোটারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।


